অলিখিত ‘ফাইনালে’ বাংলাদেশের বিপক্ষে চাপে শ্রীলঙ্কাই

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১–১ সমতা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচ—এ যেন এক অলিখিত ফাইনাল। যে দল জিতবে, সিরিজ যাবে তাদের ঘরে। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশি চাপ কি তবে সফরকারী বাংলাদেশের?

সিরিজ নির্ধারণী এমন ম্যাচে প্রত্যাশার ভার সব সময়ই একটু বেশি থাকে স্বাগতিকদের ওপর। শ্রীলঙ্কার কোচ সনাৎ জয়াসুরিয়া অবশ্য চাপের কথা উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী, ‘আমরা টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি। টি-টোয়েন্টিও আমাদের জিতেই শেষ করতে হবে। খেলোয়াড়েরা ভালো খেলতে চায় এবং সে জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি।’

গলে টেস্ট ড্র করার পর কলম্বোর টেস্টে হেরে যায় বাংলাদেশ। পাল্লেকেলে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও মিলিয়ে যায় বাজে ব্যাটিংয়ে। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি। আরেকটি ম্যাচ হার মানে এই সফর থেকে বাংলাদেশের বিদায় অতৃপ্তি নিয়েই।

প্রেমাদাসায় ম্যাচের আগের দিন সিরিজ জয়ের লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল দুই দলই। শ্রীলঙ্কার অনুশীলন ছিল প্রাণবন্ত, বোলার-ব্যাটসম্যান সবাই ঝালিয়ে নেন নিজেদের। টি-টোয়েন্টি অনুশীলনের মতোই বড় শট খেলার চর্চা ছিল ব্যাটসম্যানদের। কোচ জয়াসুরিয়া কখনো এক নেটে, কখনো আরেক নেটে দাঁড়িয়ে দেখেছেন খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।

বাংলাদেশ দলের অনুশীলন তুলনামূলক হালকা হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল না। আলাদা করে বড় শটের অনুশীলন করেছেন লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন। ব্যাট-বল হাতে সময় দিয়েছেন মেহেদী হাসানও। যদিও অসুস্থতা বোধ করায় বিশ্রামে ছিলেন আগের ম্যাচে ঝড় তোলা শামীম হোসেন। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গুরুতর কিছু নয় তার অসুস্থতা।

ডাম্বুলার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শামীমের ২৭ বলে ৪৮ রানের ইনিংসটি দলকে এনে দেয় লড়াইয়ের মতো স্কোর। আজকের ম্যাচেও তার কাছ থেকে এমন ইনিংসের প্রত্যাশা থাকবেই। এমনকি পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাটিং অর্ডারে একটু ওপরেও দেখা যেতে পারে তাকে।

বাংলাদেশ কি আগের ম্যাচের জয়ী কম্বিনেশনই রাখবে? সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনের কথায় অবশ্য কিছুটা ইঙ্গিত আছে পরিবর্তনের। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কোনো দলই চায় না উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে। তবে অনেক সময় খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হয়।’ তিনি উদাহরণ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদের, যিনি বড় ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন। টানা খেলালে আবার ইনজুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেই সতর্ক কোচিং স্টাফ।

শেষ ম্যাচে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাস দেখছেন সালাহউদ্দীন, ‘আগের ম্যাচটা যেভাবে খেলেছি, আমার মনে হয় ছেলেরা মোমেন্টাম পেয়েছে। আশা করি, শেষটা আমরা ভালো করব।’

একটি ড্র, দুটি জয়—তবু এখনো সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। প্রেমাদাসায় আজ সে সুযোগ, সেই মঞ্চ। জয় দিয়ে সফরের শেষটায় হাসবে কারা? উত্তর জানা যাবে আজ রাতেই।