টি-টোয়েন্টি সিরিজে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন রিশাদ হোসেন। তার সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও মিলেছে আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে। হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তরুণ এই লেগ স্পিনার—এক লাফে ১২ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৭তম স্থানে। ক্যারিয়ারের এই অবস্থান এখন পর্যন্ত তার সেরা।
গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর একবার ঠিক এই অবস্থানে উঠে এলেও এবার সেটা আরও বেশি অর্থবহ। কারণ এবার তার বল হাতের ধারই ছাপিয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাসে।
পাল্লেকেলেতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে যদিও ব্যাটে-বলে বাংলাদেশ ব্যর্থ ছিল, রিশাদ তখনও ২৪ রানে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। কিন্তু ডাম্বুলায় যখন দল দুর্দান্ত জয়ে ফিরল, সেই ম্যাচেই রিশাদ ছিলেন সবার আগে—মাত্র ৩.২ ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট! এই পারফরম্যান্সেই যেন র্যাঙ্কিংয়ের দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি। আর দরজা খুলল—একেবারে প্রথম বিশে জায়গা করে দিয়ে।
শুধু রিশাদ নয়, বাংলাদেশ দল থেকে আরও কয়েকজন পেয়েছেন র্যাঙ্কিং উন্নতির স্বাদ। লিটন দাস, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ৭ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৪৫ নম্বরে। পারভেজ হোসেন ইমন, এখনও রানে বড় কিছু করতে না পারলেও ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ৮৫তম স্থানে। মেহেদী হাসান মিরাজ–ব্যাটে-বলে অবদান রেখে অলরাউন্ডারদের তালিকায় ২১ ধাপ লাফ দিয়ে উঠে এসেছেন ৩৯তম স্থানে।
শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রাও পিছিয়ে নেই। নুয়ান তুষারা, বাংলাদেশ সিরিজে বড় উইকেট না পেলেও ধারাবাহিক ছিলেন। ৯ ধাপ এগিয়ে এখন ১৬তম। বিনুরা ফার্নান্ডো, দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে ধস নামিয়ে ২২ ধাপ লাফ দিয়ে ৪৮ নম্বরে। কুশল মেন্ডিস, ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগিয়ে ১৫তম।
টি-টোয়েন্টিতে যেমন উঠতি তারকাদের আলো, টেস্ট র্যাঙ্কিং যেন অভিজ্ঞতার ছায়ায় মোড়ানো। জো রুট ফিরে পেয়েছেন নিজের চেনা মঞ্চ—টেস্ট ব্যাটসম্যানদের শীর্ষস্থান। ভারতের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে সেঞ্চুরি করে দলের জয়ে নেতৃত্ব দিয়েই ৩৪ বছর বয়সে আবারও উঠলেন এক নম্বরে। এটা তার অষ্টমবার শীর্ষে ওঠা—এবং ২০১৪ সালের কুমার সাঙ্গাকারার পর সর্বোচ্চ বয়সে এই কৃতিত্বের অধিকারী।
তার জায়গা থেকে নেমে গেলেন হ্যারি ব্রুক, যিনি কিছুদিন আগেও ব্রিটিশ মিডিয়ার চোখের মণি ছিলেন। টেস্ট বোলারদের তালিকায় একের পর এক জায়গা দখল করে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা। স্কট বোল্যান্ড, কিংস্টন টেস্টে একই ইনিংসে হ্যাটট্রিক, মাত্র ৯ রানে ৬ উইকেট! আর তাতেই ৬ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ছয় নম্বরে। এটিই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অবস্থান। মিচেল স্টার্ক, র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও এখনও আছেন শীর্ষ দশে—দশম স্থানে। এখন টেস্ট বোলারদের শীর্ষ দশে পাঁচজনই অস্ট্রেলিয়ান!
দলে স্কট বোল্যান্ড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, আর একজন উদীয়মান পেসার (উদাহরণস্বরূপ নাথান এলিস/মার্ক স্টেকেটি)। অস্ট্রেলিয়ার এই দাপট বলে দেয়—টেস্টের জমিনে এখনও তারা একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখছে।
একদিকে তরুণ রিশাদের লাফিয়ে ওঠা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ রুটের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন—র্যাংকিং যেন এবার ভারসাম্যের গল্প বলছে। যেখানে নতুনরা জায়গা করে নিচ্ছে সাহসিকতায়, পুরোনোরা দখল রাখছে প্রজ্ঞায়।
ক্রিকেটের র্যাংকিং শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি সময়ের আয়না—যেখানে প্রতিটি উন্নতি, প্রতিটি পতন একেকটি গল্প বলে দেয়। আর এই সপ্তাহের গল্পটা? বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটা আশার আলো, আর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ানদের অব্যাহত আধিপত্য।
হামজাদের আবারও প্রিমিয়ার লিগে ফেরাতে চান নতুন কোচ
‘কোনো ক্রিকেটারকে বলে দেই না সে কখন অবসর নেবে’
ভক্তকে মেসেজ পাঠিয়ে চমকে দিলেন মেসি, চাইলেন ঠিকানা!