দিয়াবাতে মোরসালিনে বলীয়ান আবাহনী?

অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দল গড়ে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ রানার্স-আপ হয়েছিল আবাহনী। ৫ আগস্ট পরবর্তী টালমাটাল অবস্থায় গত মৌসুমে দলবদলের শেষ দিনে শতভাগ স্থানীয়দের নিয়ে দল গড়েছিল ধানমন্ডি জায়ান্টরা। মধ্যবর্তী দলবদলে দুই ভিনদেশিকে যুক্ত করে শক্তি বাড়ালেও চিরবৈরী মোহামেডানের শিরোপা জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তবে বসুন্ধরা কিংসকে ছাপিয়ে ঠিকই রানার্স-আপ হয় এবং মোহামেডানের গাফিলতির সুযোগে টিকিট পেয়ে যায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফে। ১২ আগস্ট জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী আতিথ্য দেবে উজবেকিস্তানের দল এফসি মুরাস ইউনাইটেডকে। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে আজ থেকে পরীক্ষিত কোচ মারুফুল হকের অধীনে প্রস্তুতি শুরু করবে আবাহনী। এবারও আছে আর্থিক সংকট। তবে এর মধ্যেই শক্তিশালী দল গঠনের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে তারা। মোহামেডানের ঘরের ছেলে বনে যাওয়া মালির ফরোয়ার্ড সুলেমান দিয়াবাতে ও বসুন্ধরা কিংসে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনকে সামনের মৌসুমে খেলানো অনেকটাই চূড়ান্ত করেছে আবাহনী।

আর্থিক নিশ্চয়তা পুরোপুরি মেলেনি বলে একটু নিভৃতেই দল গঠনের কাজ করছেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু। কাকে রাখবেন, কাকে অন্য ক্লাব থেকে নেবেন এমন প্রশ্নগুলো সযতেœ এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে দিয়াবাতে ও মোরসালিনের খেলার বিষয়টি। এছাড়া গত মৌসুমে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাত গোল করা আল-আমীনকে পুলিশ থেকে নিয়ে আসাও অনেকটা নিশ্চিত করেছে আবাহনী। সত্যজিৎ দাস রূপু জানালেন, গত মৌসুমে যাদের কৃতিত্বে দল এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফে খেলার সুযোগ পাচ্ছে, সেই ফুটবলারদের বেশিরভাগকেই ডাকা হয়েছে ক্যাম্পে, ‘আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। এখনই তাই দল নিয়ে বলার মতো অবস্থায় পৌঁছাইনি। সময় হলেই সব কিছু দেখতে পাবেন। তবে এটা বলতে পারি পুরনোদের বেশিরভাগকেই আমরা ধরে রেখেছি। তাদের নিয়েই আমরা আগামীকাল (আজ) থেকে প্রাক-মৌসুম ক্যাম্প শুরু করব। একটু সতর্ক থাকতে হচ্ছে যাতে পরিকল্পনাগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারি। তাই আগেভাগে কারও ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

দিয়াবাতে টানা ছয় মৌসুম খেলেছেন মোহামেডানে। গত মৌসুমে মোহামেডানের প্রথম লিগ জয়েও ছিল তার বড় অবদান। তবে এবার দিয়াবাতেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সাদা-কালোরা আর্থিক সংকটের কারণে। ক্লাবটির ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব জানিয়েছিলেন, আগামী মৌসুমের জন্য দিয়াবাতে যে বেতন দাবি করেছিলেন, সেটা দিতে তারা রাজি হননি। তাই আর নতুন চুক্তির পথে হাঁটেনি মোহামেডান। সেই সুযোগটাই নিয়েছে আবাহনী। এদিকে আবাহনীতে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোরসালিন নিজেই। আল-আমীনও জানিয়েছেন ঠিকানা বদলের বিষয়টি।

বসুন্ধরা কিংসে ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন শেখ মোরসালিন। ছিলেন তাদের বাইন্ডিং খেলোয়াড়। এই মৌসুম বাইন্ডিংয়ের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তবে বসুন্ধরা তার সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেনি নানা কারণেই। বাইন্ডিংয়ের প্রথম বছর মোহামেডানে ধারে খেলে আলো ছড়ানোর পর কিংসেই পরের দুই মৌসুম খেলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন জাতীয় দলে। তবে গত মৌসুমে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরে নানা নেতিবাচক কারণে শিরোনাম হয়েছেন মোরসালিন। মাঠেও জ্বলে উঠতে পারেননি। এসব দিক চিন্তা করেই তাকে ছেড়ে দেয় কিংস। আবাহনী অবশ্য তাকে লুফে নিয়েছে। মোরসালিনও মনে করেন, দল বদলে ফর্মে ফিরতে পারবেন, ‘এই মৌসুমে আবাহনীতে খেলব। এরই মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। কেবল আর্থিক বিষয় নয়, আমি এই সিদ্ধান্তকে গেম টাইমিংকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আশা করব আবাহনীতে অনেক বেশি খেলার সুযোগ পাব। আবাহনী ঐতিহ্যবাহী দল। এখানে নিজেকে নতুন করে মেলে ধরতে চাই।’

গত লিগের প্রথম পর্বে পুলিশের হয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আল আমীন। করেছিলেন সাত গোল। পরে অবশ্য গোলের ধারায় ছেদ পড়েছিল তার। দিনাজপুরের এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বাস আবাহনীর হয়ে আসছে মৌসুমে নিজেকে আরও ওপরে তুলে নিতে পারবেন, ‘আমি আবাহনীতে খেলব। একদিন পরেই ক্লাবে আসছি। আবাহনীর মতো দলে খেলাটা গর্বের ও আনন্দের। দেশের অন্যতম সমর্থকপুষ্ট দল। এবার নতুন দলের হয়ে সাফল্য পাওয়াটা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।’

দিয়াবাতে, মোরসালিন, আল আমীনদের নেওয়াটা যেমন আবাহনীর জন্য স্বস্তির, একই সঙ্গে কিছুটা অস্বস্তি ছড়াচ্ছে দলের ফর্মে থাকা মিতুল মারমা ও মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হৃদয়ের দল ছেড়ে যাওয়ার গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে দুজনের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছে বসুন্ধরা কিংস। তবে আবাহনীর কর্তারাও আশাবাদী, গত মৌসুমের সেরা দুই পারফরমারকে ধরে রাখতে। হৃদয়ও জানিয়েছেন পুরনো ঠিকানায় থেকে যাওয়ার ইচ্ছের কথা, ‘এখনো ক্লাবের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো কথা হয়নি। তবে আবাহনীতেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। এখন দেখা যাক কী হয়।’