ইরাকের পূর্বাঞ্চলীয় ওয়াসিত প্রদেশের কুত শহরের শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬০ জনে। এছাড়া এ অগ্নিকাণ্ডে ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪টি পোড়া মরদেহ উদ্ধার এবং ভবনটির ভেতর থেকে অন্তত ৪৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৫৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছি। তবে একটি মরদেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছে যে, তা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।’
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাঁচতলা ভবনটি দাউদাউ করে জ্বলছে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, এই শপিংমলটি মাত্র এক সপ্তাহ আগে চালু হয়েছিল। এখানে একটি রেস্তোরাঁ এবং সুপারমার্কেটও ছিল। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আগুনটি বুধবার রাতেই ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা লোকজনকে উদ্ধার করেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে। তবে এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
‘একটি বিপর্যয় ও শোকাবহ ঘটনা আমাদের ওপর নেমে এসেছে,’— বলেছেন ওয়াসিত প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-মিয়াহী। তিনি আরও জানান, ভবন মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের কাছে গভর্নর আল-মিয়াহী বলেন, ‘অনেক মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে। তদন্ত চলছে এবং প্রাথমিক প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলের কর্নিশ হাইপারমার্কেটের একাধিক তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ছাদে কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করে।
সকাল ৪টা পর্যন্ত কুত শহরের হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়। শহরটি রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী চিকিৎসক নাসির আল-কুরাইশি বলেন, ‘আমার পরিবারের পাঁচ সদস্য মারা গেছেন। আমরা শুধু খাবার খেতে এসেছিলাম এবং ঘরের লোডশেডিং এড়াতে মলে এসেছিলাম। হঠাৎ দ্বিতীয় তলার একটি এসি বিস্ফোরিত হয়, তারপর আগুন লেগে যায়। আমরা পালাতে পারিনি।’
ইরাকে ভবন নির্মাণে নিরাপত্তামানের অভাব এবং দুর্নীতি অনেক পুরোনো সমস্যা। ২০২৩ সালে উত্তরাঞ্চলীয় হামদানিয়া এলাকায় একটি খ্রিস্টান বিবাহ অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে ১০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। ২০২১ সালে নাসিরিয়া শহরে একটি কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে আগুনে মারা যান প্রায় ৯০ জন।
এই দুর্ঘটনা আবারও ইরাকের নিরাপত্তা অব্যবস্থার করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর আল-মিয়াহী।