বরখাস্ত হওয়া সেই ওসি বিএনপি নেতাকে পরালেন মালা, আ. লীগ নেতাকে নিয়ে কাটেন কেক

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে ২০২৩ সালের ১৫ জুন সাময়িক বরখাস্ত হন শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুরুজ উদ্দিন আহম্মেদ। সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের পর চলতি বছরের ৭ মার্চ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) হিসেবে যোগ দেন নড়িয়া থানায়। যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের গলায় ফুলের মালা পরানোসহ নিজের জন্মদিনে আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে কেক কাটতে দেখা গেছে।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান রিপনের গলায় গাদার মালা পরিয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া নড়িয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিকদারের সঙ্গে কেক কেটে নিজের জন্মদিন পালন করছেন ও গান গাইছেন এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা বলছেন, পুলিশ সদস্যর এমন কাজ আইনের ব্যত্যয়।

ফারুক আলম নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিএনপি নেতাকে তদন্ত ওসির মালা পরানোর ছবিটি আপলোড করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘মাসুদুর রহমান রিপন প্যাদার এই একটাই গুণ, সে থানায় যায় না। ওসি তদন্ত স্যার তার কাছে আসেন শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। মন জুড়ানো একটি মুহূর্ত। শুভকামনা মামা আপনার জন্য।’

এদিকে, বৃহত্তর ফরিদপুর-বন্ধু আড্ডা-এসএসসি, ৯৫ ফেসবুক পেইজ থেকে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে নিজের জন্মদিনের কেক কাটা ও গান গাওয়ার ভিডিও আপলোড করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয় ‘ওসি তদন্ত নড়িয়া থানা সুরুজের জন্মদিন।’

জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, ২৪ পরবর্তী অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে আমরা দলদাস এমনকি কোনো দলের আধিপত্য বা তেলবাজি করবে এমন পুলিশ সদস্য চাই না। পুলিশকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। পুলিশ শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং তাদের সেবা দেবে। নড়িয়ার ঘটনাগুলো অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান রিপন বলেন, একটি মামলার ব্যাপারে আমার বাসায় আসেন (তদন্ত ওসি) তিনি। আমার বাসায় অনেক লোকজন আসে, তারা আমাকে মালা পরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন (তদন্ত ওসি) তিনি মালা ধরছিলেন।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সকালে নড়িয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সুরুজ উদ্দিন আহম্মেদের কক্ষে ভিডিও বক্তব্য আনতে গেলে তিনি জানান, নড়িয়া পূর্ব মাথার শুভগ্রামের বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমান রিপনের বাড়িতে গিয়েছিলাম একটি মামলার বিষয়ে। আর আমার জন্মদিনে এসএসসি ব্যাচের বন্ধুরা ছিল। একথা বলার পর ভিডিও বক্তব্য নিতে চাইলে, তিনি ভিডিও বক্তব্য না দিয়ে কক্ষ থেকে চলে যান। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে একধিকবার কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. আসলাম উদ্দিন মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমি পুলিশ সুপার স্যারকে জানিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, নড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিষয়ে অবগত হয়েছি। এটা শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ, সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এটা খতিয়ে দেখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রাথমিক তদন্তের জন্য বলেছে। আমরা তদন্ত করবো।

প্রসঙ্গত, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নাওডোবা বাজারের ব্যবসায়ী আবু জাফর ওরফে ঠাণ্ডু চোকদারকে ২০২৩ সালের ৩১ মে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে এনে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় একটি কক্ষে আটকে রেখে ও পিটিয়ে ৭২ লাখ টাকার চেক লিখে নেওয়ার ঘটমায় নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মনির, পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) সুরুজ উদ্দিন আহম্মেদ।