ভাগ্য বদলের আশায় জমি বন্ধক রেখে, তিনটি গরু বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে ১৭ মাস আগে সৌদি আরব যান মো. ইয়াছিন মিয়া (২৪)। কথা ছিল সেখানে পৌঁছাবার পর ভালো কাজ পাবেন। পাবেন আকামাও। তবে এসবের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বরং দালাল প্রতারণা করে ট্যুরিস্ট ভিসায় সৌদিতে নেয় ইয়াছিনকে।
শুধু তা-ই নয়, প্রথম তিন মাস একটি ঘরে আটকে রেখে ইয়াছিন মিয়ার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। তার মুক্তি ও কাজের কথা বলে দালালের মাধ্যমে দফায় দফায় টাকা পাঠায় ইয়াছিনের পরিবার। কিন্তু টাকা পেয়ে ইয়াছিনকে মুক্ত করে দিলেও কাজ না পেয়ে প্রবাসে মানবেতর দিন কাটছে ইয়াছিনের।
এদিকে প্রবাসে ছেলের মানবেতর জীবনযাপনে উৎকণ্ঠায় আছেন ইয়াছিনের বাবা-মা। অন্যদিকে অর্থাভাবে ও ঋণের চাপে অনাহারে দিন কাটছে তাদের। ইয়াছিনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ইয়াছিনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে বিষণ্ণ বসে আছেন ইয়াছিনের বাবা-মা। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইয়াছিনের বাবা মো. নূরুল ইসলাম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ অইয়্যা গেছে বাজান। আমার ছেলের ভাগ্য বদলাতে জমি বন্ধক রেখে, গরু বিক্রি করে ও ধার করে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা দিই দালাল সুমন মিয়ার হাতে। কথা ছিল ইয়াছিন সৌদি পৌঁছার পর তিনি ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দিবেন। কিন্তু কিছুই হয়নি। আমার সারা জীবনের জমানো সব টাকা শেষ হয়েছে। আমার ছেলেও প্রবাসে অনেক কষ্টে আছে।’
এ সময় তিনি বিদেশে আটকে পড়া ছেলের কাজের নিশ্চয়তা, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং দালাল চক্রের মূল হোতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ নিয়ে গত ১৩ জুলাই ভুক্তভোগী ইয়াছিনের মা পারভীন আক্তার বাদী হয়ে দালাল চক্রের ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৯) ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম (২৪), প্রয়াত সুলতান মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫৬) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের (৪৭) নাম উল্লেখ করা হয়।
ইয়াছিনের প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুস ও সাইফুল ইসলাম বলেন, দালালদের খপ্পরে পড়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এই গ্রামের আরও কয়েকজন বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত দালালদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, আমরা অবৈধভাবে ও দালালদের মাধ্যমে বিদেশে না যেতে উঠোন বৈঠক ও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় মানুষকে সচেতন করি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।