রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে এবার ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে ইউক্রেন। দেশটির সরকারি সহায়তায় গঠিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ ও ক্রয় সংস্থা ব্রেভ ওয়ান জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের উন্নত প্রযুক্তি ও অস্ত্র ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেস্ট ইন ইউক্রেন’। খবর: রয়টার্স
গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ব্রেভ ওয়ান জানায়, এ প্রকল্পে যে সব বিদেশি কোম্পানি অংশ নিতে আগ্রহী, তারা তাদের তৈরি অস্ত্র ইউক্রেনে পাঠাবে। পরে অনলাইনে সেনাদের জন্য ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর ইউক্রেনীয় বাহিনী সেই অস্ত্রগুলো রণাঙ্গনে ব্যবহার করে প্রতিবেদন পাঠাবে সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদের কাছে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে জার্মানির ভিসবাডেনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ব্রেভ ওয়ান-এর বিনিয়োগ সংযোগ বিভাগের প্রধান আরতেম মোরোজ বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি বর্তমানে কী ধরনের প্রযুক্তি বাজারে রয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোও জানতে পারছে, কোন প্রযুক্তি বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে।’
তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে এ প্রকল্প পরিচালিত হবে বা এতে ব্যয় কেমন হবে, সে বিষয়েও তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন সরকার ২০২৩ সালে ব্রেভ ওয়ান প্ল্যাটফর্ম চালু করে। এ প্ল্যাটফর্মে দেশীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারে এবং সামরিক ইউনিটগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রের চাহিদা জানাতে পারে।
আরতেম মোরোজ আরও জানান, সংস্থাটি ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কিছু সামরিক প্রযুক্তির তালিকা তৈরি করেছে, যেগুলো তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করে দেখতে চায়। তার ভাষায়, ‘আমাদের একটা অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং গ্লাইড বোমা প্রতিরোধের সমাধান।’
এছাড়া ইউক্রেনের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে জাহাজবিহীন জলযান, ভূমিভিত্তিক ইলেকট্রনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং কামানের নির্ভুলতা বাড়াতে এআই-নির্ভর নির্দেশনা প্রযুক্তি।
রাশিয়া ৩ বছর আগে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের দৈর্ঘ্য ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি এবং রুশ বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তীব্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় নগরীগুলোর ওপর বিমান হামলার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন চায় তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও গতিশীল করতে। বিদেশি বিনিয়োগের সহায়তায় দেশটি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রকেই নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়—যেখানে সত্যিকারের লড়াইয়ের ভেতরেই নির্ধারিত হবে অস্ত্রের কার্যকারিতা।