যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে পূর্ণ শান্তি চুক্তির পথে ফিরবে হামাস

গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির পক্ষে থাকলেও এই বিষয়ে চলমান আলোচনায় সমঝোতা না হলে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির দাবিতে ফিরে যেতে পারে হামাস। আজ শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এ কথা জানান হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা। খবর: রয়টার্স

তিনি বলেন, হামাস একাধিকবার গাজায় আটক সব জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লক্ষ্যে একাধিক দফা বৈঠক চলছে। গত ১০ দিনের বেশি সময় ধরে এই আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানায় হামাস।

চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী, গাজায় আটক ১০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং আরও ১৮ জনের মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল একটি নির্ধারিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

আবু উবাইদা বলেন, ‘শত্রু যদি আবারও আগের মতো এই পর্বের আলোচনায় গড়িমসি করে এবং একে ভেস্তে দেয়, তাহলে আমরা ভবিষ্যতে আর আংশিক চুক্তি বা ১০ জিম্মি মুক্তির প্রস্তাবে ফিরব না।’

হামাসের দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির বিষয়ে এখনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মানচিত্র, গাজায় ত্রাণ সরবরাহের প্রক্রিয়া এবং যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা।

হামাস স্পষ্ট করেছে, যেকোনো চুক্তির ফলে যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র না করা ও তাদের নেতাদের গাজা থেকে তাড়ানো না পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।

শুক্রবার পোপ লিও’র সঙ্গে ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জিম্মিদের মুক্তি এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইসরায়েল সদিচ্ছা দেখালেও হামাস এখনও এর কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

ইসরায়েলি সূত্র জানায়, শাব্বাতের (ইহুদি সাপ্তাহিক ছুটি) প্রাক্কালে তাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি হিসাবে, এই সংঘাতে মোট ১ হাজার ৬৫০ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ২০০ জন গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলায় নিহত হন।