‘জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ প্রণয়ন না হলে দায়ভার সরকারের’

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০১:৩৭ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ ‘পিআর’ (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন বোঝে না। যারা এই পদ্ধতির পক্ষে সাফাই গাইছে, তারা নির্বাচনের আগেই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন না হলে তার দায়ভার নিতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে।

আজ শুক্রবার বিকেলে মিরপুরের পল্লবীতে মৌন মিছিলের আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যারা বলছে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাই, তারা আসলে চায় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত কিংবা অনিশ্চিত করতে। কেয়ারটেকার সরকার তিন মাসের জন্য সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত। তাদের দায়িত্ব কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোনো ম্যান্ডেট নির্বাচন কমিশনেরও নেই। কমিশন শুধু রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দায়বদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুরোধ জানায়, তখনই কেবল স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করতে পারে। অথচ এখন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে সবসময় একটি দল বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করেছে—একবার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, আরেকবার জনগণের বিরুদ্ধে, কখনোবা মানুষের আবেগের বিরুদ্ধে। আজ তারা আবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। আমি নাম বলব না, আপনারা নিজেরাই বুঝে নিন।”

তিনি বলেন, ‘যে দলটি ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেছে, তারা এখন বলে পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন মানে না। তাদের সঙ্গী হয়েছে আরেক বিভ্রান্তির দল। এরা সবাই মিলে আবার ফ্যাসিবাদের চেহারা সামনে আনতে চাইছে।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শহীদদের রক্তস্নাত এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো ঠাঁই হবে না। আজ যারা রাজনীতিতে নতুন বাক্য বিশারদ হয়ে উঠেছে, যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের স্বপ্ন দেখছে—তাদের উদ্দেশ্য ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করা। এ ষড়যন্ত্র কখনো সফল হবে না।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও ফ্যাসিস্টদের রাজনীতি হয়েছে মিরপুর, গুলিস্তান ও পল্টনে; কিন্তু দাফন হয়েছে দিল্লিতে। যারা তাকে আবার ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করছে, তাদেরকে চিহ্নিত করা হবে।’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যারা সংস্কার কমিশনে বসে সন্ধ্যায় খানা-পিনা করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই চলে যাচ্ছে, তারা কারা? অনেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল বা আছে। আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম, এদের সঙ্গে বসে কোনো ফল আসবে না। এখন দেখছি, তারা শুধু সংখ্যা দেখিয়ে আলোচনার নামে নাটক করছে।’

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘জুলাই মাসের ১৮ তারিখ চলে এসেছে। যদি জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদ প্রণয়ন না হয়, তবে এর দায় নিতে হবে সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন বলা হচ্ছে, বিএনপির জন্যই সংস্কার হচ্ছে না। অথচ প্রতিটি ঐকমত্যে বিএনপির পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যা তারেক রহমান জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের লক্ষ্য রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার, একটি জনগণের সংবিধান, যেখানে থাকবে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স, ভারসাম্য, এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বসছি, আলোচনা করছি, একমত হতে চেষ্টা করছি। হয়তো শতভাগ বিষয়ে সবাই একমত হবে না—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে জাতির স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।’

সমাবেশের শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘এ দেশ আমার মুক্ত, আর দেব না রক্ত’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নাই, বাংলায় বাংলায়’, ‘রক্তঝরা বাংলায় ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নাই’—এই স্লোগান তোলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত