যারা বলেন ৭২’র সংবিধান সংস্কার করা যায়, তাদের চিন্তা অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, তাদের সঙ্গে আমি একমত নই। আপনারা কি ভারতের দালালি করছেন? কেন এটিকে টিকিয়ে রাখছেন?
তিনি বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলে ৭২ এর সংবিধান রেখে দিতে চায় তারা মূলত দিল্লির আধিপত্য ও ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি মানে নতুন করে জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে ফ্যাসিস্ট শক্তি আর টিকতে পারবে না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘জুলাই নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত ‘সংবিধানের ফাঁদ—সংবিধান ও গণসার্বভৌমত্ব নিয়ে জরুরি বয়ান’ শীর্ষক শহীদ আবু সাঈদ-ওয়াসিম স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, যারা ৭২ সালের সংবিধান লিখেছে, তারা পাকিস্তানি শাসনের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধি। পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে তারাই সেই সংবিধান লিখে দিয়েছেন। এটা কেন পবিত্র হবে? কারণ দিল্লি লিখে দিয়েছে? স্বাধীনতার জন্য যে যুদ্ধ হয়েছিল, তা এই সংবিধান প্রণয়নের জন্য হয়নি।
ছয় মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিচার হয়ে যাওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে গণঅভুত্থ্যানের পরে ছয় মাসের মধ্যে বিচার হয়ে গেছে। কারা বিচার করেছে? জনগণ বিচার করেছে। কারা সাক্ষী দিয়েছে? জনগণই সাক্ষী দিয়েছে। যারা ক্ষমতায় গেছেন তাদের উচিত ছিল এই ধরনের বিচারের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা না করে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধানের অধীনে ৮ তারিখে গণঅভুত্থ্যানকে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। সব পুরনো পুলিশ, ব্যবসায়ী, আমলা, সমাজে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ওই যারা আগে অর্থাৎ যারা নির্যাতন করেছিল তারা আবার এসেছে। সেনাবাহিনী সেনাবাহিনীর জায়গায় আছে, আমলারা আমলার জায়গায় আছে, আইন আইনের জায়গায় আছে, আদালত আদালতের জায়গায় আছে। আপনাদের কিছুই বদল হয় নাই।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কি ৭২ সংবিধান কায়েম করার জন্য যুদ্ধ করেছেন? তিনি যুদ্ধ করেছেন স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য। সেই ঘোষণায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ছিল। ওখানে সমাজতন্ত্র ছিল? ওখানে ধর্মনিরেপক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এত বড় গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করার সুযোগ পেয়েছে, এই সুযোগকে নসাৎ করার জন্য প্রথম থেকে তারা বলছে ‘তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন। আরে ভাই আমরা কি বসছি নির্বাচনের জন্য? শুধু নির্বাচনের জন্য মারা গেলাম, শহীদ হলাম? তিনি বলেন, তিনি বলেন, ছাত্ররা বলেছে, একটা জুলাই ঘোষণা দিতে হবে। এই ঘোষণা একইসঙ্গে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের ভিত্তি। এর ভিত্তিতে আগামীদিনের রাষ্ট্র গঠন করা হবে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান বক্তব্য রাখেন।