মোস্তাফিজ-তাসকিনরা ১১০ রানেই আটকে দিলেন পাকিস্তানকে

৯ ম্যাচ পর লিটন দাস পান টসে জেতার আনন্দ। আগে বোলিং করার তার সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন বোলাররা, সঙ্গে দুটো দারুণ রানআউট। পাওয়ার প্লেতে ৪১ রানের মধ্যেই পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। আর তিন বল বাকি থাকতেই সফরকারীরা অলআউট হয় ১১০ রানে। বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে জ্বলজ্বলে মোস্তাফিজ। নিজের চার ওভারের ১৮টিই করেন ডট। ২ উইকেট নিতে খরচা করেন মাত্র ৬ রান। ২২ রানে ৩ শিকার ধরেন তাসকিন।

ইনিংস শুরু করা শেখ মেহেদির চতুর্থ বলেই ফখর জামানের তোলা ক্যাচ ফেলে দেন তাসকিন আহমেদ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজজেতার শেষ ম্যাচেও শুরুর দিকে এমন ক্যাচ ফেলেছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। ওই ম্যাচে ক্যাচ ছেড়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমানও।

তবে দ্বিতীয় ওভারেই তার প্রায়শ্চিত্ত করেন তাসকিন। তার লেন্থে করা ডেলিভারিটি সাইম আইয়ুব ফ্লিক করলে ধরা পড়েন ডিপ ফাইন লেগে মোস্তাফিজের হাতে। ৪ বলে ৬ রান করে থামেন সাইম। ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। তৃতীয় ওভারে তিন তিনটি বাউন্ডারি হজম করেন মেহেদি। কিন্তু শেষ বলে শোধ নেন মোহাম্মদ হারিসের উইকেট ‍তুলে নিয়ে। শর্টার লেন্থে করা ডেলিভারিটি তুলে মারতে গিয়ে টাইমিংয়ে ব্যর্থ হন হারিস। ক্যাচে পরিণত হন ডিপ মিডউইকেটে দাঁড়ানো শামীম পাটোয়ারীর। স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩২ রান।

পঞ্চম ওভারটি করতে আসেন তানজিম হাসান সাকিব। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলেই আঘাত হানেন তিনি। তার করা ডেলিভারিটি লিটনের গ্লাভসের পোঁছানোর আগে ছুঁয়ে যায় স্কুপ করতে যাওয়া সালমান আলি আগার গ্লাভস। ৯ বলে ৩ রান করে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। পরের ওভারে চার বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই হাসান নাওয়াজকে সাজঘরে ফেরার মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজের স্লোয়ার কাটারে মিসহিট করে বসেন নাওয়াজ। ধরা পড়েন থার্ডম্যানে থাকা রিশাদ হোসেনের হাতে। পাওয়ার প্লে শেষে ৪১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।

অষ্টম ওভারে আসে বাংলাদেশের পঞ্চম সাফল্য। শেখ মেহেদির বলে ডিফেন্স করে দ্রুত রান নিতে চেয়েও ফিরে আসেন ফখর। বোলিং প্রান্তে ছোঁড়া লিটনের থ্রো ধরে স্টাম্প ভাঙেন মেহেদি। ততক্ষণে ক্রিজে পৌঁছাতে পারেননি মোহাম্মদ নাওয়াজ। রান আউট হয়ে ৩ রানে ফেরেন তিনি। পাকিস্তানের রান তখন ৪৬।

ফখরের ভুল কলে নাওয়াজ যেমন আউট হন, তেমনি খুশদিলের ভুলে একই পরিণতি বরণ করেন ফখর জামান। ১২তম ওভারে ফাইন লেগে পাঠিয়ে দুই রানের কল দিয়ে ফিরে আসেন খুশদিল। মাঝপথ থেকে ফিরতে গিয়ে ক্রিজে ঢুকতে পারেননি ফখর। তাসকিনের করা থ্রোয়ে তার আগেই লিটন ভেঙে দেন স্টাম্প। পাকিস্তানে ইনিংস এত দূর টেনে নিয়ে এসে ৬ চার, ১ ছয়ে ৩৪ বলে ৪৪ রানে ফেরেন দুবার জীবন পাওয়া ফখর। ৭০ রানে ৬ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

৭ম উইকেটে ২৯ বলে ৩৩ রানের জুটিতে যখন কিছুটা পথে ফেরার প্রয়াসে ছিল পাকিস্তান, তখনই আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। আগের ওভারে ১৪ রান দিয়েছিলেন তানজিম। ১৭তম ওভারে করা মোস্তাফিজের প্রথম বলেই থার্ডম্যানে ক্যাচ তুলে দেন আব্বাস আফ্রিদি। সে যাত্রায় বেঁচে যান। কিন্তু পরের বলেই স্লোয়ার-কাটারে মিস টাইমিংয়ের শিকার হন ইফতিখার আহমেদ। মিড অফে থাকা রিশাদ ক্যাচ লুফে নিলে ২৩ বলে ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন ইফতিখার।

শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফকে থামান তাসকিন। শর্ট থার্ডম্যানে ওঠা ক্যাচ মুঠোয় ভরতে কোনো ভুল করেননি মেহেদি। অভিষিক্ত সালমান মির্জা রানআউট হয়ে ফেরেন পরের বলে। তৃতীয় বলে আব্বাসকে তৃতীয় শিকার বানান তাসকিন। পাকিস্তান অলআউট হয় ১১০ রানে।

মিরপুরে পাকিস্তানকে হারানোর দুবারের প্রমাণিত সূত্র রয়েছে বাংলাদেশের। সফরকারীদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে হবে। মিরপুরের গড় স্কোর ১৩৮ রানের আশেপাশে বোলাররা তাদের বেঁধে রাখবেন। পরে ব্যাটসম্যানরা এসে সেটি তাড়া করবেন নির্ভয়ে। বোলাররা তাদের কাজ করে ফেলেছেন। এবার ১১১ রানের লক্ষ্য ছোঁয়ার পালা ব্যাটসম্যানদের।