ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, ভক্তদের বিশেষ আগ্রহ। সেই উত্তেজনার রেশ এবার ছিল অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের নিয়েও। ইংল্যান্ডে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসে রবিবার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস দলের। কিন্তু ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই বাতিল হয়ে গেছে। আর সেই বাতিলের দায় এক ‘নির্দিষ্ট’ ব্যক্তির ওপর চাপালেন শহীদ আফ্রিদি।
পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক আফ্রিদি নাম প্রকাশ না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ানই সবকিছুর জন্য দায়ী। স্থানীয় সাংবাদিকদের আফ্রিদি বলেন,‘আমরা এখানে খেলতে, কথা বলতে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে এসেছি। কিন্তু কখনো কখনো একটা বাজে লোক সবকিছু নষ্ট করে দেয়।’
ম্যাচটি বাতিল হওয়ার পেছনে ধাওয়ানই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে আপত্তি জানান। তাঁর দেখাদেখি হরভজন সিং, ইউসুফ পাঠান, ইরফান পাঠান ও সুরেশ রায়নাও খেলতে রাজি হননি। তাদের যুক্তি, সাম্প্রতিক ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ম্যাচে অংশ নেওয়া ঠিক হবে না।
ধাওয়ান অবশ্য আগে থেকেই এই বিষয়ে আয়োজকদের মেইল করেছিলেন বলে জানান। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লেখেন, গত ১১ মে তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন।
আফ্রিদি বলেন, ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত ভারত দল অনুশীলন করেছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলে তারা। ‘ওরা যদি খেলতেই না চাইত, তাহলে আগে থেকেই জানাতে পারত। কিন্তু অনুশীলনের পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।’
পাকিস্তান দলের মালিক কামিল খান জানান,‘আমরা খেলতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তারা পিছিয়ে যাওয়ায় ম্যাচ বাতিল হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচের দুই পয়েন্ট আমাদের দেওয়া হবে।’
সাবেক পেসার আবদুর রউফ খান এ ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেটারদের দ্বিচারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।‘পর্দার আড়ালে তারা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, কেনাকাটা করে। অথচ মাঠে খেলতে চায় না! এটা ভালো দৃষ্টান্ত নয়।’
এই টুর্নামেন্টে ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। শীর্ষ চার দল উঠবে সেমিফাইনালে। সেখান থেকে ফাইনালে যাওয়ার লড়াই।
ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনালে যদি ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হয়?—এমন প্রশ্নে পাকিস্তান দলের মালিক জানান, ‘সেমিফাইনালে মুখোমুখি হলে আমরা এড়িয়ে যাব। আর ফাইনালের সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হবে।’
শেষ পর্যন্ত আফ্রিদি ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্বের বার্তাই দিয়েছেন, ‘খেলাধুলা হলো সেতুবন্ধ। একজন খেলোয়াড়ের উচিত ভালো দূত হওয়া, লজ্জার কারণ নয়। সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতার প্রয়োজন।’