বাংলাদেশে খেলা যে সহজ কিছু নয়, সেটাই যেন ভুলে গিয়েছিল পাকিস্তান। মিরপুরের চিরচেনা স্লো ও স্পিনবান্ধব উইকেটে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তাসকিন-মুস্তাফিজদের বোলিং তোপে মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। আর সেই ম্যাচ শেষে পাকিস্তান দলকে কন্ডিশনের বাস্তবতা বোঝাতে গিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন কামরান আকমল।
ম্যাচ শেষে দেশের ক্রিকেটারদের ব্যর্থতায় হতাশ কামরান বলেন, ‘প্রথম ওভারে ৯ রান দেখে মনে হচ্ছিল পাকিস্তান বুঝি ২০০ করার পরিকল্পনায় নেমেছে। কেউ তাদের বলেনি এটা লাহোর নয়, বাংলাদেশ। এখানকার কন্ডিশন চ্যালেঞ্জিং, খেলাটা অত সহজ নয়। কন্ডিশনকে সম্মান করতে হয়, আর সেটা পাকিস্তান করেনি।’
ম্যাচের উইকেট নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগের সুর ছিল পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন ও অধিনায়ক সালমান আঘার কণ্ঠে। তবে সাবেক উইকেটরক্ষক কামরানের মতে, উইকেটের দোহাই দিয়ে লাভ নেই, বরং বুঝেশুনে খেলতে না পারাটাই আসল ব্যর্থতা।
তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী ও তানজিম হাসান সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৯ ওভারে ১১০ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। মুস্তাফিজ চার ওভারে দেন মাত্র ছয় রান, তুলে নেন দুটি উইকেট। তাসকিন নেন তিন উইকেট মাত্র ২৩ রানে।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো না হলেও পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয়ের ৭৩ রানের অনবদ্য জুটি জয় এনে দেয় স্বাগতিকদের।
এ প্রসঙ্গে আকমলের বিশ্লেষণ,‘তানজিদ আর লিটন আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের একটা জুটি দাঁড়িয়ে যায়, আর তারাই ম্যাচ শেষ করে দেয়। ওটাই ছিল দুই দলের পার্থক্য। টার্গেট ছোট হলে বেস্ট বোলারদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়। এ জায়গায় পাকিস্তান পিছিয়ে।’
বাংলাদেশে প্রতিপক্ষকে ভোগাতে এমন উইকেট নতুন কিছু নয়। তবে সেটিকে দোষ না দিয়ে সঠিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন কামরান। তার মতে, ‘পাকিস্তান তাদের চিরাচরিত কৌশলেই খেলেছে, বাস্তবতার খোঁজ নেয়নি। পিচ রিডিং, পরিস্থিতি বোঝা, এগুলো ছিল না বলেই এমন হার।’
প্রথম ম্যাচে এই হারের পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পাকিস্তানকে কেবল কৌশলই নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও আনতে হবে—এমন বার্তাই যেন দিয়ে গেলেন কামরান আকমল।
মোস্তাফিজকে খেলতে জানে না পাকিস্তানের কেউ, বিস্ফোরক বাসিত আলী
এশিয়া কাপ অনিশ্চিত, বিপুল ক্ষতির মুখে পিসিবি