আট বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার লিয়াম ডসন। শোয়েব বশিরের ইনজুরির কারণে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চতুর্থ টেস্টের দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। যদিও দলের সঙ্গে ফেরার আনন্দে মগ্ন ডসনের জন্য এই বিরতি খুব বড় মনে হলেও, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতির নজির গড়েছেন অন্য কেউ।
ডসনের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালে। সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ট্রেন্ট ব্রিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরপর ২০২৪ সালে ফিরে এলেন, অর্থাৎ ৮ বছরের ব্যবধানে। এ সময় ইংল্যান্ড খেলেছে ১০২টি টেস্ট।
তবে দুটি টেস্টের মাঝে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দলের বাইরে থাকা ইংলিশ ক্রিকেটার হলেন গ্যারেথ ব্যাটি। ২০০৫ সালের জুনে অ্যাশেজে খেলার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরে আবারও টেস্ট খেলেছিলেন এই অফস্পিনার। মাঝখানে কেটেছে ১১ বছর ১৩৭ দিন এবং ইংল্যান্ড খেলেছে ১৪২টি টেস্ট।
কিন্তু সর্বকালের দীর্ঘতম বিরতির রেকর্ডটা রয়েছে আরেক স্পিনার জন ট্রাইকোসের নামে, যার কাহিনি ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য।
১৯৭০ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট খেলেছিলেন জন ট্রাইকোস। কিন্তু সেই সিরিজের পর বর্ণবাদের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে কার্যত হারিয়ে যান ট্রাইকোস।
তবে তিনি ছিলেন মিসরে জন্ম নেওয়া, গ্রিক বংশোদ্ভূত এক ক্রিকেটার, যিনি বেড়ে উঠেছিলেন জিম্বাবুয়েতে। দক্ষিণ আফ্রিকার নিষেধাজ্ঞার পর জিম্বাবুয়ের হয়ে ঘরোয়া ও ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলতে থাকেন তিনি। ১৯৯২ সালে যখন জিম্বাবুয়ে টেস্ট মর্যাদা পায়, তখন বয়সের ছাপ উপেক্ষা করে ফেরেন আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে। ভারতের বিপক্ষে হারারেতে মাঠে নামেন সেই বছর অক্টোবরে—সেটিই ছিল তার প্রত্যাবর্তন, ২২ বছর ২২২ দিন পর!
আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম পাকিস্তানের ফাওয়াদ আলম। অভিষেকের পর টেস্টে আবার সুযোগ পেতে তার লেগেছিল ১০ বছর ২৫৯ দিন। ২০২০ সালে টেস্টে ফেরেন তিনি, অনেকটা বিস্ময়করভাবেই।
লিয়াম ডসনের জন্য ৮ বছর পর টেস্ট দলে ফেরা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তবে ক্রিকেট ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ আছে, যারা সময়ের বাধা পেরিয়ে আবারও জাতীয় দলের দরজায় কড়া নেড়েছেন। ট্রাইকোস, ব্যাটি কিংবা ফাওয়াদ—প্রত্যেকে তাদের প্রত্যাবর্তনের গল্প দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটে কখনও “শেষ” বলে কিছু নেই।