মাথা ঠান্ডা রেখে ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে চান সাগরিকা

নারী সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে সোমবার রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। সেই চ্যাম্পিয়ন দলের চার খেলোয়াড় পূজা দাস, সাগরিকা, শান্তি মার্ডি ও নবিরন খাতুন আজ মঙ্গলবার কথা বলেছেন সংবাদিকদের সঙ্গে। সেই কথোপকথনের চুম্বক অংশ দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

শান্তি মার্ডি বলেন, 'আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি বলে অনেক খুশি লাগছে। আমি চেষ্টা করব আমার সর্বোচ্চ খেলাটা দেয়ার। আমাকে নামালে অবশ্যই সর্বোচ্চ দিয়ে খেলবো।' বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে লেফট উইংয়ে খেলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। অনূর্ধ্ব-২০ দলে শান্তি খেলেছেন লেফট উইংয়ে। ঋতুপর্ণার কাছ থেকে শিখতে চান শান্তি মার্ডি। 'চেষ্টা করব ঋতু আপুর কাছ থেকে আরও শিখবো। উনি যে খেলেন উনার স্টাইল থেকে শেখার চেষ্টা করবো। যেন উনার থেকে ভালো পারফর্ম করতে পারি।'

লেফট উইং ছাড়া আর কোন পজিশনে খেলতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে শান্তি বলেন, 'আমি আগে মিডফিল্ডে খেলতাম। এই ফুটবল ফেডারেশনে আসার পরে আমাকে লেফট উইংয়ে দেয়া হয়েছে।'

সামনে নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব। সেটি নিয়ে সাগরিকা বলেন, 'আসলে প্রস্তুত আছে। এর থেকে আরও ভালো কিছু করতে হবে আমাদের। যে কদদিন সময় পাবো, আমাদের আরও ভালোভাবে তৈরি হতে হবে। এর থেকে বেটার পারফরম্যান্স করতে হবে। তাহলে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো।'

অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে স্বাগতিক লাওস ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া ও পূর্ব তিমুর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। এ নিয়ে সাগরিকা বলেন, 'প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। তারা কেমন খেলে তা এখনো দেখিনি। তো আমাদের কোচ যেই নির্দেশনা দেন, সেটা মেনে আমাদের খেলতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু করে আসবো।’

সাগরিকার আইডল কে এমন প্রশ্নে বলেন, 'আমি নেইমারকে অনুসরণ করি।' নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে সিমরানের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন সাগরিকা। আবার নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিরেই করেছেন হ্যাটট্রিক। সোমবারের ম্যাচে সাগরিকাকে দেখা যায় ঠান্ডা মাথায়। এ নিয়ে সাগরিকা বলেন, ‘আসলে সবসময় তো আর মারামারি করলে হবে না। এটা বুঝতে পারছি আমাদের স্ট্রাইকারদের সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। যদি মাথা ঠান্ডা রাখি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারবো।’

ডিফেন্সে খেলেন নবীরন খাতুন। নেপালের বিপক্ষে সোমবার খেলা ম্যাচ নিয়ে বলেন, 'কালকে প্রথম হাফ আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে। মধ্যবিরতির সময় কোচ আমাদের বলে দেন কীভাবে খেলতে হবে। আপনারা দেখেছেন হাফ টাইমের পরে খেলাটা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। অনেকগুলো গোল হয়েছে। চারটা গোল করেছেন সাগরিকা। আমাদের কোচ যেভাবে পরিকল্পনা সাজান, আমরা সেভাবেই খেলি।'

নবীরন আগে খেলতেন ফরোয়ার্ড হিসেবে। তবে এখন খেলেন ডিফেন্ডার হিসেবে। এ নিয়ে বলেন, 'আমি তো বিকেএসপির শিক্ষার্থী। তো তখন স্ট্রাইকারে খেলেছি। কিন্তু এখানে আসার পর কোচ বলেছেন তুমি ডিফেন্সে ভালো করবা, কিছুদিন প্র্যাকটিশ করো। অনুশীলনে ভালো করেছি। আপুরা কোয়ালিফাই করেছে না ওই টিমে ছিলাম ডিফেন্স হিসেবে। তখন থেকেই ডিফেন্সে।'

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লিগে দ্বিতীয় দেখায় জোড়া গোল করেন পূজা। এএফসি বাছাই নিয়ে কতটা আত্নবিশ্বাসী এমন প্রশ্নে পুজা বলেন, 'আমি চেষ্টা করব এই পারফরশ্যান্স, ধারাবাহিতা ধরে রাখার জন্য। প্রত্যেকটা ম্যাচ একেকটি চ্যালেঞ্জিং। পুরোটা কাভার করার জন্য চেষ্টা করব।'