ফেনী শহরের কনসেপ্ট হাসপাতালে হাত ভেঙ্গে এক মহিলা রোগী ডা. মাসুম কবিরের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে ব্যান্ডেজ সামগ্রী বাবদ ৪ হাজার টাকা ও ব্যান্ডেজ করানো ফি বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে উক্ত সার্জিক্যাল সামগ্রী ২৬০ টাকায় ও ফ্রিতে আরেক ডাক্তার ব্যান্ডেজ করে দেন।
একটি জাতীয় টিভি চ্যানেলের ফেনীর ভিডিও সাংবাদিক দুলাল তালুকদার জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় রিকশা থেকে নামার সময় অসাবধানতা বসত আমার আম্মা হাতে ব্যাথা পায়। খবর পেয়ে প্রেসক্লাব থেকে আমি এক সহকর্মীসহ গিয়ে তাৎক্ষণিক বাসার পাশে ফেনীর কনসেপ্ট প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারের ধার্যকৃত ৮০০টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তার মাসুম কবির (নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও অর্থোপেডিক- ট্রমা সার্জন) কে দেখালাম। ডাক্তার আম্মাকে দেখে এক্সে দিলেন। আমিও সেই হাসপাতালে ৬০০টাকা দিয়ে এক্সে করালাম। রির্পোট দেখে ডাক্তার বলেন হাড় ভেঙ্গে গেছে। হাতে ব্যান্ডেজ করতে হবে। আমি হাসপাতালের কাউন্টারে গেলাম, সেখানে ডাক্তারের সহকারী ডালিম আমাকে একটি স্লিপ দিয়ে বলেন, এগুলো আমাদের ফার্মেসি থেকে নেয়া লাগবে, মোট বিল ৪ হাজার টাকা এবং যিনি ব্যান্ডেজ করবে তাকে ২৫০০ টাকা দিতে হবে। মোট ৬ হাজার ৫০০টাকা দিতে হবে।
দুলাল তালুকদার বলেন, আমার সাথে থাকা সহকর্মী সাংবাদিক ডালিম হাজারীর সাথে এবিষয়ে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা শহরের জাহান সার্জিক্যাল থেকে এগুলো ক্রয় করবো। যেই কথা সেই কাজ আমরা তাদের সেই চার হাজার টাকার স্লিপ নিয়ে ঐ সার্জিক্যাল পণ্য কিনলাম ২৬০ টাকায়। পরে ডাক্তার মাসুম কবিরকে ওষুধ লিখে দিতে বললে তিনি বলেন, আমাদের এখানে আগে ব্যন্ডেজ করান তারপর ওষুধ লিখে দিবো, পরে অনেক অনুরোধ করার পর তিনি ওষুধ লিখে দেয়। এরপর অন্য হাসপাতালে আমার পরিচিত এক ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে মায়ের হাতে ব্যন্ডেজ করালাম, শুধু রিকশা ভাড়া দিয়ে।
তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তাররা মিলে রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে, অসহায় রোগীরাও তা করতে বাধ্য হন। যা এক প্রকার ডাকাতি।
এ ব্যাপারে ডাক্তার মাসুম কবির বলেন, এটা আসলে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমার সহকারি ডালিম উনাকে ঠিকভাবে বোঝাতে পারেননি। মূলত ৪০০০ টাকার প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজের মূল্য আমরা ২ হাজার ৫০০টাকা হিসাব করেছে, ব্যান্ডের সামগ্রীর মূল্য নয়। উনি সাংবাদিক জানতাম না, জানলে ফ্রিতে করে দিতাম।