বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গাজায় ‘মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ চলছে, খাদ্যাভাবে এক রাতে ১০ জনের মৃত্যু

ইসরায়েলি আগ্রাসন ও সহায়তা প্রবেশ বন্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। বুধবার জেনেভা থেকে একটি ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্স বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘এটিকে আপনি আর কী বলবেন? এটি নিছকই এক ‘গণদুর্ভিক্ষ’, এবং এটি সম্পূর্ণরূপে মানবসৃষ্ট—এটা একেবারেই স্পষ্ট।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ চলার পর মার্চ মাসে গাজার জন্য সমস্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। মে মাসে কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হলেও এখনো সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ইসরায়েল বলছে, তারা সহায়তা ঢুকতে দিচ্ছে, তবে তা যাতে হামাসের হাতে না পড়ে, সেজন্য নিয়ন্ত্রণ জরুরি। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর দাবি, গাজায় যে সহায়তা প্রবেশ করছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।

ডব্লিউএইচওর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত রাতেই আরও ১০ জন ফিলিস্তিনি খাদ্যাভাবে মারা গেছেন, যা এ পর্যন্ত দুর্ভিক্ষজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১১-এ পৌঁছেছে। অধিকাংশ মৃত্যুই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে।

এছাড় চলতি বছর এখন পর্যন্ত অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে সংস্থাটি বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় অপুষ্টি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো মাত্রাতিরিক্ত রোগী। কিন্তু জরুরি পুষ্টিসেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রায় ৮০ দিন কোনো খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো।

ডব্লিউএইচও বলছে, পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে— বর্তমানে গাজায় পরীক্ষা করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১০% মাঝারি বা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এই হার ২০% পর্যন্ত।

শুধু জুলাই মাসেই ৫ হাজার ১০০ শিশুকে অপুষ্টিজনিত চিকিৎসায় ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮০০ জন চরম রকমের শুকনো ছিল বলে জানান ফিলিস্তিনে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিক পিপারকর্ন।