সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে তুরস্ক ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি এক সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। গতকাল বুধবার ইস্তানবুলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা এর ফাঁকে এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় গুলার জানান, ‘আমরা প্রায় ৪০টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করছি। এ বিষয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে এবং আমরা তা নিয়ে কাজ করছি।’
ইউরোফাইটার টাইফুন বহুমুখী ক্ষমতাসম্পন্ন একটি যুদ্ধবিমান। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সম্মিলিত উদ্যোগে এটি তৈরি করেছে একটি কনসোর্টিয়াম। আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাঙন, স্থল আক্রমণ, বৈদ্যুতিক যুদ্ধ—সবক্ষেত্রে টাইফুন দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে।
ন্যাটো মানসম্পন্ন টাইফুনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ও নমনীয় মডুলার কাঠামো। এর দুটি ইউরোজেট ইজে২০০ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৯৫ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে। রিফুয়েলিং ছাড়া একটানা ২ হাজার ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সর্বোচ্চ উড়তে পারে ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায়।
বিমানের ডেল্টা-ডানা ও কানার্ড নকশা এটিকে দেয় অতুলনীয় গতিশীলতা। এক আসনের হলেও রয়েছে দুই আসনের সংস্করণ। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ মিটার, ডানার প্রস্থ ১১ মিটার, খালি ওজন ১১ টন এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন ২৩.৫ টন।
প্রযুক্তি, রাডার ও সেন্সর সুবিধা
টাইফুনে রয়েছে উন্নত ‘এইএসএ’ রাডার ব্যবস্থা, যার নতুন সংস্করণ ক্যাপ্টর-ই। এতে আরও রয়েছে ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং সিস্টেম, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক যুদ্ধ প্রযুক্তি, হেলমেটভিত্তিক টার্গেটিং ডিসপ্লে এবং ন্যাটো-সমর্থিত উন্নত ডেটা লিঙ্ক সিস্টেম।
অস্ত্র বহনের সক্ষমতা
বিমানটিতে রয়েছে ২৭ মিমি মাউজার কামান এবং ১৩টি অস্ত্র বহনের পয়েন্ট। এতে বহন করা যায় মিটিওর, অ্যামরাম, আইরিস-টি, আসরাম ধরনের আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পেভওয়ে বোমা, স্টর্ম শ্যাডো, ব্রিমস্টোন ও জেডিডিএএম-এর মতো আকাশ-ভূমি অস্ত্র।
স্টেলথ প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সক্ষমতা
টাইফুনের কাঠামোর মাত্র ১৫ শতাংশ ধাতব উপাদান হওয়ায় এটি শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। এর ইজে২০০ ইঞ্জিন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও উচ্চতাপে সহনশীল, যা এটিকে দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ে সক্ষমতা দেয়।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও ওমানের বিমানবাহিনী টাইফুন ব্যবহার করছে। শক্তিশালী সেন্সর, উন্নত অস্ত্র বহন ক্ষমতা এবং আধুনিক নকশার কারণে বিশ্বে টাইফুনকে অন্যতম কার্যকর যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তুরস্কের সম্ভাব্য এই ক্রয় দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বেও এক নতুন দিক উন্মোচন করবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি