ইহুদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি

ট্রাম্প প্রশাসনকে ২২১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিচ্ছে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ১০:৩৪ এএম

দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এক ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে মোট ২২১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করবে। এর বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে স্থগিতকৃত ও বাতিল হওয়া ফেডারেল তহবিল পুনর্বহাল করা হবে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল অর্থায়ন বাতিল করে কলাম্বিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়টি গত বছরের গাজায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ও ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভের সময় ইহুদি ও ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ ও হয়রানির ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

বার্তা সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চলমান একাধিক ফেডারেল তদন্ত নিষ্পত্তি করতে সরকারকে তিন বছরের মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইক্যুয়াল ইমপ্লয়মেন্ট অপরট্যুনিটি কমিশন-এর তদন্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ২১ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি চুক্তিতে কোনো দোষ স্বীকার করেনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটি একটি বিজয়।’ উল্লেখ্য, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে প্রো-প্যালেস্টাইন ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘চলতি বছরের মার্চে স্থগিত বা বাতিল করা অধিকাংশ ফেডারেল অনুদান পুনর্বহাল করা হবে এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আবারও বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিলিয়ন ডলারের গবেষণা অনুদান পেতে পারবে।’

হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ চুক্তি প্রায় দুই দশকে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান বৈষম্য সংক্রান্ত নিষ্পত্তি। এটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর কলাম্বিয়া ক্যাম্পাসে ইহুদি কর্মীদের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ব্যয় হবে।

কলাম্বিয়া আরও জানায়, চুক্তিটি মার্চ মাসে ঘোষিত কিছু নীতিগত পরিবর্তনকেও স্বীকৃতি দিয়েছে—যেমন বিক্ষোভের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নতুন শৃঙ্খলা পদ্ধতি এবং মধ্যপ্রাচ্য-সম্পর্কিত পাঠ্যক্রমের পুনর্মূল্যায়ন।

বিশ্ববিদ্যালয় আরও বলেছে, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা দোষ স্বীকার করছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বারবার স্বীকার করেছে, ইহুদি ছাত্র ও শিক্ষকরা অগ্রহণযোগ্য ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে এবং সংস্কার জরুরি ছিল।’

এছাড়া ভর্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের ওপর নজরদারি জোরদার করবে। তারা আবেদনকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকারকে তা জানাবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত