গত মাসে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘গভীর ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে দুর্বল করতে ইসরায়েল যে উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হয়নি।
আজ শুক্রবার নিহতদের মৃত্যুর ৪০তম দিনে দেওয়া এক বাণীতে খামেনি বলেন, “এই আঘাত এসেছে সেই জঘন্য ও শত্রুসুলভ জায়নবাদী শাসকদের কাছ থেকে, যারা ইরানি জাতির প্রকাশ্য শত্রু।”
তিনি বলেন, ‘শহীদ বাগেরি, সালামি, রাশিদ, হাজিজাদে, শাদমানি ও অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শহীদ তেহরানচি, আব্বাসি এবং আরও বিজ্ঞানীর মৃত্যু যে কোনো জাতির জন্যই একটি বড় শোক। কিন্তু এই নির্বোধ ও স্বল্পদৃষ্টির শত্রু তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।’
খামেনির ভাষায়, ‘ইসলামী বিপ্লবের সামরিক ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন আরও দ্রুত গতিতে উঁচু শিখরে পৌঁছাবে।’
৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
গত ১৩ জুন শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের সামরিক, পরমাণু ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে একযোগে হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন শতাধিক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং বহু সাধারণ মানুষ।
এই হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলের উদ্দেশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ২৭ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। ইরানের হিসাব মতে, ওই ১২ দিনের সংঘর্ষে তাদের মোট ১,০৬২ জন নিহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে ৭৮৬ জন সামরিক সদস্য এবং ২৭৬ জন বেসামরিক মানুষ।
সংঘাত চলাকালে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে আঘাত হানে। অপরদিকে, ইরানি সেনাবাহিনী একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে পাল্টা আঘাত হানে।
শুক্রবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে খামেনি ইরানের সামরিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামে নিজেদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতির গতি বাড়ানোরও আহ্বান জানান।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানের প্রায় ১২০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ধ্বংস বা অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে—যা যুদ্ধের আগে দেশটির মোট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা এস-৩০০ এবং ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বাভার-৩৭৩ ব্যবস্থা।
সবশেষে খামেনি বলেন, যত বড় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হোক না কেন, ইরানের এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করা যাবে না। শহীদদের রক্তই বরং সেই গতিকে ত্বরান্বিত করবে।