স্টোকসের আগে যে কীর্তি আছে সাকিব-মিরাজেরও

বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, সোহাগ গাজী কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজ—এই তিন ক্রিকেটারের সঙ্গেই এবার জায়গা করে নিলেন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস। টেস্ট ক্রিকেটে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার দুর্লভ কীর্তিতে নাম লেখালেন ইংলিশ অধিনায়ক।

ম্যানচেস্টারে ভারতের বিপক্ষে চলমান টেস্টে ৭৮৯ দিন পর তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন স্টোকস। শেষবার টেস্ট শতরান ছিল লর্ডসে ২০২৩ সালে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজে। আর এবার শতরানের পাশাপাশি বল হাতেও ঝলক দেখালেন, তুলে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ব্যাট-বলের এই যুগল কীর্তি তাঁকে পৌঁছে দিল এক গৌরবময় তালিকায়।

ইংল্যান্ডের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে একটি টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়লেন স্টোকস। ইংলিশদের হয়ে সবার আগে এই কীর্তিতে নাম লিখিয়েছিলেন টনি গ্রেইগ। ১৯৭৪ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এরপর টানা চারবার সবমিলিয়ে ৫ বার এমন কীর্তি গড়েন ইয়ান বোথাম। ১৯৭৮ সালে দুইবার। ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে একবার করে এবং ১৯৮৪ সালে একবার এই কীর্তি গড়েন তিনি।

এরপর টানা ২৯ বছর এমন কীর্তি দেখেননি ইংলিশ আর কোনো ক্রিকেটার। ৩০ বছর পর গত বছরের ২৯ আগস্ট শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লর্ডসে এই রেকর্ডের স্বাদ পান গাস অ্যাটকিনসন। এক বছরের ব্যবধানে আরেকবার পেলেন বেন স্টোকস।

বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে এটি ছিল ৪১তম ঘটনা। তবে আলাদা করে ক্রিকেটারের সংখ্যা ৩০, কারণ একাধিকবার এই কীর্তি গড়েছেন কয়েকজন। ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম পাঁচবার, ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন চারবার, আর বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান করেছেন দুইবার। এছাড়া বাংলাদেশের সোহাগ গাজী ও মেহেদী হাসান মিরাজ একবার করে নাম লিখিয়েছেন এই তালিকায়।

স্টোকসের এই অলরাউন্ড কীর্তি কেবল পরিসংখ্যানেই নয়, ম্যাচের প্রেক্ষাপটেও এনে দিয়েছে নাটকীয় রূপ। ব্যাট হাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার পর বল হাতে ধস নামিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ে। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে স্টোকস যেন স্মরণ করিয়ে দিলেন—চোট, সময় কিংবা সমালোচনা, কিছুই তাঁকে থামাতে পারে না।