ভারতের হায়দরাবাদে ৩ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল নারী বিশ্বকাপ কাবাডির দ্বিতীয় আসর। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে সেই আসরের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। ঘোষণার কিছু পরেই বিশ্বকাপ স্থগিতের আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছে ফেডারেশন। যদিও ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে তিনদিন আগেই বিশ্বকাপ স্থগিত হওয়া নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়টি ভালোভাবে না জেনেই দল ঘোষণা ও দলের প্রত্যাশা জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ। তিনি অবশ্য সংবাদ সম্মেলনের কয়েক মিনিট পরে পাওয়া স্থগিতের চিঠি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করে দায় এড়াতে চাচ্ছেন।
শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অডিটরিয়ামে জাতীয় পুরুষ ও নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন, নারী বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ ঘোষণা, সরকার থেকে পাওয়া জাতীয় কাবাডি সেন্টার নির্মাণের অগ্রগতি ও বার্ষিক পঞ্জিকা প্রকাশের জন্য সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছিল কাবাডি ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ সোহাগ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম। সিনিয়র রূপালিকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ফেডারেশন সম্পাদক। যে দলের কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয় আরদুজ্জামান মুন্সি ও শাহনাজ পারভীন মালেকার নাম। ঘণ্টাব্যাপী সংবাদ সম্মেলন শেষে যখন জানা যায় নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না নারী বিশ্বকাপ, তখন সোহাগ বিষয়টি আগে থেকে অবগত নন দাবি করে বলেন, ‘আমাদের অফিসিয়ালি স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছে আজ (শনিবার) বেলা ৩টা ১০ মিনিটে। অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া থেকে মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। এছাড়া আজই (শনিবার) ভারত আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশনকে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আসর স্থগিত হলেও দলের প্রস্তুতি চলমান থাকবে।’ এর আগে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি স্বরূপ সরকারের অর্থায়নে নেপালে গিয়ে পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল।
দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৯ জুলাই থেকে দেশব্যাপী নারী ও পুরুষ জাতীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের ঘোষণা করেন ফেডারেশন সম্পাদক। ৯টি জোনে বিভক্ত হয়ে পুরুষ বিভাগে ৬৪ জেলা দল অংশ নেবে জোনাল পর্বে। জোনাল পর্ব শেষে মূল পর্ব হবে ঢাকায়। যেখানে জোনের সেরাদের সঙ্গে যুক্ত হবে সার্ভিসেস দলগুলো।
এদিকে সম্প্রতি সরকার গোপালগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনকে বরাদ্দ দিয়েছে পূর্ণাঙ্গ কাবাডি কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য। ১২ একর জমি ও কিছু স্থাপনা ২০ বছরের জন্য কাবাডিকে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে ক্রীড়া পরিষদ সচিব বলেন, ‘তারা প্রক্রিয়া মেনে রাজধানীর বাইরে একটি স্থাপনা চেয়েছিল সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য। আমরা তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সব দিক বিবেচনা করে ঢাকার বাইরে একটি স্থাপনা বরাদ্দ দিয়েছি। আপাতত ২০ বছরের জন্য গোপালগঞ্জে এই কমপ্লেক্স কাবাডি ব্যবহার করবে।’ নেওয়াজ সোহাগ সেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক মানের কাবাডি কমপ্লেক্স স্থাপনের কথা জানিয়েছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছি। একটি প্রস্তাবনাও তৈরি হচ্ছে। আমরা এমন একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চাই, যেখানে চাইলে বিদেশি দলগুলোও ব্যবহার করতে পারে। কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় সুবিধা বিনিময়ের ব্যাপারে। কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা। যেটা বহির্বিশ্ব ভালোভাবেই অবগত। তাই আমাদের মনে হয়েছে বাংলাদেশে একটা পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা জরুরি।’
সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছর জুলাই থেকে আগামী বছর জুন পর্যন্ত ১২ মাসের একটি ক্রীড়াপঞ্জি ঘোষণা করা হয়। আগামী এক বছরে ১০টি ঘরোয়া আসর ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার বিষয় সম্ভাব্য তারিখসহ উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কাবাডি খেলোয়াড়দের মাসিক বেতনের আওতায় নিয়ে আসার ঘোষণা করেছেন নেওয়াজ সোহাগ। আপাতত অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দলের ২০ খেলোয়াড়কে মাসিক ১০ হাজার করে দুবছর বেতনের আওতায় নিয়ে আসবে ফেডারেশন। পর্যায়ক্রমে পুরুষ কাবাডি খেলোয়াড়দেরও আনা হবে বেতন কাঠামোয়। এছাড়া ভবিষ্যতে সিনিয়র দলের খেলোয়াড়দেরও বেতনের আওতায় আনার কথা বলেছেন সোহাগ। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ইনস্যুরেন্সের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে ফেডারেশনের। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পরিষদও সব খেলাকে ইনস্যুরেন্সের আওতায় আনার সরকারি উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে।