ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের লক্ষ্যে ইসরায়েল যখন শেষ ধাপের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
পত্রিকাটির কলাম লেখক ডেভিড ইগ্নেটিয়াস শুক্রবার (২৫ জুলাই) রাতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, ‘যখন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন, ইসরায়েল তখন ইরানি শাসনব্যবস্থাকে পতনের মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো চূড়ান্ত হামলার পর্যায়ে ছিল।’
তিনি জানান, ইসরায়েল মনে করেছিল, ওই হামলা বাস্তবায়ন করা গেলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়।
এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা আসে ২৩ জুন, যা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার টানা ১২ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটায়। ওই দ্বন্দ্ব শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে।
ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল—সামরিক অভিযান সফল হলে তবেই তারা এতে অংশ নেবে।
সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প—দুজনই প্রকাশ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
জুন মাসের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘Regime change’ শব্দটি এখন রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, যদি বর্তমান ইরানি সরকার ‘Make Iran Great Again’ করতে ব্যর্থ হয়, তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন কেনই বা হবে না??? MIGA!!!’
ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, ইসরায়েলের টানা ১২ দিনের হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অন্তত এক থেকে দুই বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, ‘ইরান এখন আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে নেই।’
তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির প্রায় সব পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন এবং তাদের সমৃদ্ধকরণ ও অস্ত্রায়ন ক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
নাতানজ, ফরদো, ইসফাহানসহ গোপনে সংরক্ষিত ইউরেনিয়ামের গুদামে হামলার পাশাপাশি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস ও নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইসরায়েলি সূত্র জানায়, শুধু হার্ডওয়্যার নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মানবসম্পদ ও সরবরাহ চেইন ধ্বংস করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
ওই সামরিক অভিযানে বিমান হামলা, গোয়েন্দা প্রবেশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদমিক যুদ্ধ কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকেই ইসরায়েল আকাশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ইরানের প্রায় অর্ধেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করে।
এই অভিযানে ইসরায়েল হঠাৎ করে বিমান হামলা ও ড্রোন ব্যবহার করে শত শত ইরানিকে হত্যা করে, যাদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক, সামরিক সদস্য এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীও ছিলেন। এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয় ২৭ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল