জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বড় একটি ঘটনা হলো দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান। যদি অস্ত্র হ্যান্ডেলই করতে না পারেন তাহলে নিয়ে আসেন কেন? দক্ষিণ এশিয়াতে এই অস্ত্র কাহিনীর কারণে বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়েছে। অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক সংঘাত বিরাজ করেছে।
আজ রবিবার দুপুরে নেত্রকোনায় এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমি বাবর ভাইকে সম্মান করি। তারা নির্যাতিত নেতা। কিন্তু আপনার ওই কাজ আমি সমর্থন করি না। আপনার এই কাজের কারণে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। হাসিনার মতো একজন খুনি ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা এসেছিল।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। আমরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যারা সরকারি প্রশাসনে রয়েছে রাজনৈতিক চেয়ারে আসবেন তাদের বলতে চাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসে এমন অযাচিত সিদ্ধান্ত আর নেবেন না।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে যারা বিএনপির কর্মী নির্যাতিত হয়েছিল, আমার ভাইদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, গুলি চালিয়েছিল এর জন্য ইতিহাসের কাঠগড়ায় আপনিও দায়ী থাকবেন। আমরা শান্তি চাই। আমরা অশান্তি চাই না বাংলাদেশে। বাংলাদেশে যদি কোনও ব্যবস্থা না হয় সেই ব্যবস্থা সঠিক নিয়মে নিতে হবে। মনিপুরী আসাম পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে যেখানে যারা রয়েছেন। আমাদের বাঙালি ভাইয়েরা, মুসলমান ভাইয়েরা তারা আজকে নির্যাতিত হচ্ছে। সেই নির্যাতনের যাঁতাকলে ভারত সরকার দিন দিন তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সংঘাতের পেছনে আপনি দায়ী। এই জন্য আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তি, সচেতন সমাজ সবাইকে আহ্বান জানাব ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ভারত থেকে আসাম থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে। বাংলাদেশি বলে বাঙালি বলে। তাদের প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ইউনূস সরকারকে বলি আপনি এর দ্রুত প্রতিবাদ করুন। ইন্টারন্যাশনাল এরিয়ায় উঠুন। আপনি যদি এর প্রতিবাদ লিপি না পাঠাতে পারেন বাংলাদেশের মুসলমান, বাংলাদেশি, বাঙালিকে ব্যর্থতার দায় হিসেবে নিরাপত্তার জন্য আপনাকেও একদিন ইতিহাসে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
এর আগে জেলা শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি পদযাত্রা মোক্তারপাড়ার কালেক্টরেট মাঠে এসে শেষ হয়। যার নেতৃত্ব দেন সার্জিস আলম। এর আগে সার্কিট হাউসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন নাহিদ ইসলাম সার্জিস আলমরা।
পরে পুরাতন কালেক্টরেট মাঠে বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন সারজিস আলম। পরে তিনজনের বক্তব্য শেষে দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। শেরপুরের দিকে রওয়ানা হয়েছেন নেতারা।