ডা. মারিয়া কিবতিয়ার
বিভাগীয় প্রধান, শিশু বিভাগ, ডিভাইন মারসি হাসপাতাল।
হেপাটাইটিস নীরব ঘাতক। এই রোগে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যকৃতের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। যকৃত শরীরে এলবুমিন, প্রথ্রম্বিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি করে, সেই সঙ্গে বিলরুবিনের মতো ক্ষতিকর পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। বড়দের মতো শিশুদের মধ্যেও হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা অনেক বেশি।
হেপাটাইটিস কী এবং কেন হয়
যকৃতের প্রদাহকে বলে হেপাটাইটিস। এটি সাধারণত ভাইরাস দিয়ে হয়। বড়দের যেমন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস দিয়ে সংক্রমণ বেশি হয়, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে হেপাটাইটিস এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ ছাড়া কিছু নন-হেপাটট্রপিক ভাইরাস যেমন মিসেলস, চিকেন পক্স, ডেঙ্গু, করোনা এসব ভাইরাস দিয়েও শিশুদের হেপাটাইটিস হয়। পাশাপাশি টাইফয়েড জ¦রে আক্রান্ত হলেও অনেক সময় বাচ্চার হেপাটাইটিস হতে পারে। কিছু জেনেটিক ডিসিস যেমন উইলসন্স ডিসিস, অটোইমিউন হেপাটাইটিস ও বাচ্চাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়।
লক্ষণ
জন্ডিস ঘন ঘন বমিখাবারে অরুচিজ¦রশরীরে চুলকানিরেশশরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তপাত, খিঁচুনিক্রনিক হেপাটাইটিস হলে বাচ্চার রক্তশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, শরীরে পানি আসা, রক্ত বমি হওয়া এই সমস্যাগুলো দেখা যায়।
করণীয়
একিউট হেপাটাইটিস হলে বাচ্চাকে সিম্পটমেটিক চিকিৎসা দিতে হবেবাচ্চাকে কম মসলা জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে, বমি হলে অ্যান্টি ইমেটিক, অ্যান্টি আলসারেন্ট ওষুধ খাওয়াতে হবেজ¦রের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারেবাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবেএই সময়টিতে দিনে কমপক্ষে ৩-৪ বার পায়খানা করা প্রয়োজন। সে জন্য বাচ্চাকে ল্যাকটুলোজ জাতীয় সিরাপ দেওয়া চুলকানি বেশি হলে অ্যান্টিহিসটামিন ওষুধ দিতে হবেবাচ্চার জন্ডিস অতিরিক্ত বেড়ে গেলে, খিঁচুনি হলে, রক্ত বমি করলে, পেট ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।
প্রতিরোধ
হেপাটাইটিস এ ভাইরাস দূষিত পানি, খাবার দাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। সে জন্য শিশুকে ভালো করে পানি ফুটিয়ে খাওয়াতে হবেহেপাটাইটিস বি-এর সংক্রমণ রোধের জন্য শিশুকে রক্ত দেওয়ার আগে রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া দাঁত ফেলানো, খৎনা এবং অন্যান্য অপারেশনের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবেশিশুকে ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী সময়মতো টিকা দিতে হবে।