দুঃসময়ে প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার কৌশল

প্রতিষ্ঠানে দুঃসময় আসতে পারে যে কোনো সময়। এই দুঃসময়ের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এবার লাখ লাখ প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার কৌশল লাখ লাখ রকমের হতে পারে। কিন্তু কিছু কিছু সর্বজনীন কৌশল প্রায় সবারই সব সময় কাজে লাগে।

বুদ্ধিদীপ্ত পরিশ্রম : পুরো পরিকল্পনা না ভেবে বাস্তবায়নে যাবেন না। পরিশ্রম উন্নতির চাবিকাঠি এক সময় এই মূলমন্ত্রে জীবন এগিয়ে চলত। সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখন শুধু পরিশ্রম উন্নতি নিশ্চিত করতে পারছে না। চাই ‘বুদ্ধিদীপ্ত পরিশ্রম’। বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করা দরকার যাতে অল্প পরিশ্রমে বেশি অর্জন সম্ভব হয়।

সামগ্রিক লক্ষ্য : প্রতিষ্ঠানে আপনার অবস্থান কোথায়? মালিক, পরিচালক, কিংবা ব্যবস্থাপক? লক্ষ্য ঠিক করুন সামগ্রিকভাবে। প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলে কিছু নেই। প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সবার উদ্দেশ্য। খেয়াল করুন, সবাই প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অজর্নে পরিশ্রম করছেন কি না। একা লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন না।

ক্ষতি বা খরচ কমানো  : প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থাপকের সংখ্যা বাড়ানো দরকার যারা খরচ কমাতে ও ক্ষতি কমাতে তাদের মেধা কাজে লাগাবেন। অন্যথায় লাভও বাড়বে পাশাপাশি ক্ষতিও বাড়ে। দিন শেষে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে না।

সময় ও সীমা : যথাসময়ে যথা কাজটি সম্পন্ন হওয়া দরকার। অসময়ে অনেক পরিশ্রম করেও কোনো লাভ হয় না। প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তারা সময়ের কতটা সঠিক ব্যবহার করছেন জানা দরকার। 

প্রশাসন : এমন অবস্থায় প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়া দরকার। সবাই সময়মতো অফিসে আসছেন কি না, অনুপস্থিতির হার কত, অফিসের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত অকেজো যন্ত্রপাতি দ্রুত সারানোর জন্য পদক্ষেপ ইত্যাদি।

গুরুত্ব ও ফলাফল : প্রতিটি স্তরে নজর রাখুন, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করুন। প্রয়োজনবোধে প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য প্রত্যেক মাসে ‘কাজের মূল্যায়ন নির্দেশিকা’ তৈরি করুন। তারপর দেখুন সমস্যা কোথায়।

প্রতিবেদন : প্রত্যেক বিভাগের (সময়, অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা বুঝে) মাসিক বা সাপ্তাহিক বা দৈনিক প্রতিবেদন পেশ করা বাধ্যতামূলক করুন। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত সভা করুন। 

গবেষণা : প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গবেষণা বিভাগ তৈরি করুন। বিভিন্ন বিভাগের কর্মতৎপরতা, কর্মপদ্ধতি, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও অর্জিত ফলাফল এই ৪টি বিষয় নিয়ে গবেষণা করাই এই বিভাগের প্রাথমিক কাজ। নেতৃত্ব : প্রতিষ্ঠানের এই ধরনের ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব হওয়া চাই বুদ্ধিদীপ্ত, বিচক্ষণ, ধৈর্যশীল একই সঙ্গে ক্ষিপ্র, চারদিকে কড়া নজর, প্রতিনিয়ত বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ, গৃহীত পদ্ধতিতে ফলাফল আশানুরূপ না এলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ইত্যাদি।

সৃষ্টিশীলতা : আপনার সহকর্মীরা কতটা সৃষ্টিশীল। সমস্যার সমাধানে সৃষ্টিশীলতার বিকল্প নেই।  সব বিভাগের সব কর্মীই সৃষ্টিশীল হতে পারেন, পারেন তাদের কাজে নতুন নতুন চমক আনতে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য বয়ে আনবে চমকপ্রদ সাফল্য।