জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু চেয়ারম্যান পদ ফিরে পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ.কে.এম.আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ।
তিনি বলেন, “তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। এ বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী হাইকোর্টের একটি রায় হয়েছে। হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য স্ট্যা-অর্ডার দিয়ে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন। এ আদেশ ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকেই ছয় মাস কার্যকর হবে।”
এর আগে সোমবার (২৮ জুলাই) বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় ২০২৩ সালের ২০ জুন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তিনি হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। পরে এ বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী আদালত ৬ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকেই রায়ের ছয় মাস কার্যকর হলে তিন আর মাত্র ২০ দিন চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারবেন।
সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা আজকে একটি চিঠি পেয়েছি। চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পেয়েছেন বাবু। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। সেই রিটে আদালত তাকে চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।”
উল্লেখ্য, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম ২০২৩ সালের ১৪ জুন পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। পরের দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় কারাগারে ছিলেন মাহমুদুল আলম বাবু। তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।