থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে থাইল্যান্ড সেনাবাহিনী। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিসাকেত প্রদেশে কম্বোডিয়ার বাহিনী তিনটি পৃথক স্থানে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে বুধবার (৩০ জুলাই) জানানো হয়। এই ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
কেবল দুই দিন আগে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ দিনব্যাপী সংঘর্ষ বন্ধের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে ভয়াবহ সামরিক হানাহানির অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। চলমান দ্বন্দ্বে অন্তত ৪৩ জন নিহত এবং দুই দেশের প্রায় তিন লাখ সাধারণ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি সংঘর্ষ থামানো না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের পণ্যের ওপর ৩৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। যুদ্ধবিরতির পর তিনি দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরকে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে বুধবার থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী দাবি করে, কম্বোডিয়ার বাহিনী সিসাকেতের সীমান্তবর্তী এলাকায় গুলি ও গ্রেনেড ছুঁড়ে আক্রমণ চালিয়েছে, যার জবাবে তারা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল উইনথাই সুভারি বলেন, ‘এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের দ্বিতীয় ঘটনা। এর ফলে শান্তি চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা হয়, উত্তেজনা বাড়ে এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়।”
অন্যদিকে, কম্বোডিয়া পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুম সুনরি বলেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। আমরা যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং একটি আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থার পক্ষে রয়েছি।’
চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই বন্দোবস্ত অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি, তবে ভারী অস্ত্র নিয়ে লড়াইয়ের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, কম্বোডিয়ায় আগামী ৪ আগস্ট দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে, কঠোর প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা ও সহযোগিতা অপরিহার্য বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: রয়টার্স