আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে প্রহসনমূলক বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। এমনকি এই নির্বাচন ছাত্রদল হতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
রাহী বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি মনে করে মহড়া দিয়ে রুয়ার (রাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) মতো রাকসু দখল করে নেবে, তাহলে বলব চোখে একটু পানি দেন। শত শত শিক্ষার্থী জীবনের রক্ত দিয়ে দিবে, তবুও প্রহসনমূলক রাকসু নির্বাচন ছাত্রদলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা হতে দিবে না।
আজ বুধবার (৩০ জুলাই) বিকালে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে আনন্দ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।
৩৬ জুলাই: মুক্তির উৎসব’ অনুষ্ঠান আয়োজনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ‘জোরালো সুপারিশ’ করার বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাহী বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রশাসনে বসে শিক্ষার্থীদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তিনি তথাকথিত কিছু ছাত্রদের ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদার নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কিনা সেই প্রশ্ন রেখে গেলাম প্রশাসনের কাছে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে প্রশ্ন করেন, তিনি কত টাকা কমিশন খেয়ে চাঁদার সুপারিশ করেছেন। উপাচার্যের এই কাজ সত্যি হলে আপনারা তার চেয়ার পদ্মা নদীতে ছুড়ে ফেলে দেন।
এদিকে একই সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল বলেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে না বসেই আপনারা রাকসুর তফসিল ঘোষণা করেছেন। আমরা বলতে চাই, আপনারা ছাত্রদের সঙ্গে বসেন। আমরা যারা ছাত্রপ্রতিনিধি আছি, তাদের কথা তোয়াক্কা না তফসিল ঘোষণা করা আপনার ঠিক হয়নি। আপনি একঘেয়েমি করবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি থাকতে পারবেন না, স্পষ্ট কথা।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বর থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।