প্রীতি ম্যাচেও গোল করে রোনালদো বুঝিয়ে দিলেন আজও তিনি ক্ষুধার্থ

বয়স তার ৪০ ছুঁইছুঁই। পেশাদার ফুটবলে কাটিয়ে দিয়েছেন একুশ শতকের দুই দশক। ক্লান্তির ছাপ কিংবা সাফল্যের পরিতৃপ্তি—এ দুটোর কোনো ছোঁয়া কি লাগে না তার শরীরে? যদি নাম হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তবে উত্তর একটাই—না, কখনোই না।

বুধবার রাতে অস্ট্রিয়ার আন্টার্সবার্গ-অ্যারেনায় গ্রীষ্মকালীন প্রাক্‌-মৌসুম সফরের অংশ হিসেবে ফরাসি ক্লাব তুলুজের মুখোমুখি হয়েছিল সৌদি ক্লাব আল নাসর। প্রীতি ম্যাচ হলেও, রোনালদো ছিলেন পুরোপুরি সিরিয়াস। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে আল নাসর ২-১ গোলে জয় পেয়েছে, আর প্রত্যাশিতভাবেই গোল করেছেন রোনালদো।

৩৩ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি নিখুঁত ক্রস ধরে বক্সের ভেতরে ওয়ান টাচে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো। সেই গোল যেন তার সোনালি অতীতকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল পেতে পারতেন তিনি, তবে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা এক দারুণ ক্রস বলেই পা লাগাতে গিয়ে জোয়াও ফেলিক্সের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাবে সুযোগটি হাতছাড়া হয়।

বিরতির পর মোহাম্মদ মারানের গোলে ব্যবধান ২-১ করে আল নাসর। তবে রোনালদোর প্রভাব ছিল পুরো ম্যাচজুড়েই। দূরপাল্লার শটে তুলুজের পোস্টকে কয়েকবার কাঁপিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার শরীরী ভাষা, দৌড়, পাস কিংবা ফিনিশিং—সবই জানান দিচ্ছিল, তিনি এখনো থেমে যাওয়ার মতো কেউ নন।

ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা। লিখেছেন, 'ভালো করার খিদে কখনো কমে না। এখনো অনেক কাজ বাকি। আমরা কেবল শুরু করলাম।'

গত মৌসুমে আল নাসরের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫টি গোল করেছেন রোনালদো। যদিও এখনো ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো শিরোপা ছুঁতে পারেননি, কিন্তু এবার যেন সেই অপূর্ণতা পূরণে আরও বেশি উদগ্রীব তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬–২৭ মৌসুম পর্যন্ত আল নাসরে থাকবেন রোনালদো।

আল নাসরের প্রাক–মৌসুম সফরের পরবর্তী ম্যাচ স্পেনে, লা লিগার দল আলমেরিয়ার বিপক্ষে রোববার। আর নতুন মৌসুম শুরু হবে ১৯ আগস্ট, সৌদি সুপার কাপের সেমিফাইনালে আল ইত্তিহাদের মুখোমুখি হয়ে। রোনালদোর চাহনি ও শরীরী ভাষা বলছে—এই মৌসুমে লক্ষ্য শুধু একটাই, শিরোপা!