ইরান থেকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি ও বিক্রির অভিযোগে ভারতের ছয়টি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এই লেনদেনের মাধ্যমে ইরান সরকার মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে, সন্ত্রাসে অর্থ জোগাচ্ছে এবং নিজ দেশের জনগণের ওপর দমননীতি চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই পদক্ষেপে ভারতের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিশ্বের আরও ২০টি কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ‘ব্লক’ বা জব্দ থাকবে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠী তাদের তেল বিক্রির আয় ব্যবহার করছে মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা উসকে দিতে, বিদেশে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করতে এবং দেশের জনগণের ওপর দমন চালাতে। আজকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা সেই অর্থ প্রবাহ থামাতে চাই।’
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, নির্বাহী আদেশ ১৩৮৪৬-এর ধারা ৩(এ)(৩)-এর আওতায় এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্য লেনদেনে’ সচেতনভাবে জড়িত ছিল।
নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ভারতীয় কোম্পানি হলো— অ্যালকেমিক্যাল সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড, গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস লিমিটেড, জুপিটার ডাই কেম প্রাইভেট লিমিটেড, রমনিকলাল এস গোসালিয়া অ্যান্ড কোম্পানি, পারসিস্টেন্ট পেট্রোকেম প্রাইভেট লিমিটেড ও কাঞ্চন পলিমার।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত এমন যেকোনো ব্যক্তি বা কোম্পানিও ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানায় সংশ্লিষ্ট হলে তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার মধ্য দিয়ে এসব নিষিদ্ধ কোম্পানির সম্পদ বা আর্থিক স্বার্থসম্পন্ন কোনো লেনদেন করা যাবে না। তাদেরকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দেওয়াও নিষিদ্ধ—তেমনি তাদের পক্ষ থেকেও এসব গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।