তেলআবিবের বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ইসরায়েলের অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনী।
গতকাল বুধবার একাধিক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, পাঁচটি ড্রোন এবং ‘প্যালেস্টাইন-২’ নামে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, প্রথম দফায় ইসরায়েল অধিকৃত ইয়াফা এলাকায় দুটি ড্রোন দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। এরপর আশকেলন ও নেগেভ (নাকাব) অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে পাঠানো হয় আরও তিনটি ড্রোন। ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য, প্রতিটি হামলাই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল গাজায় হামলা ও অবরোধ বন্ধ না করা পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ড্রোন তারা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্য এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেন, বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে হাইপারসনিক প্রযুক্তির ‘প্যালেস্টাইন-২’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনি বাহিনী। এতে বিমান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তাঁর মতে, ওই হামলার ফলে বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিক আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং বিমানবন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহতে সম্প্রচারিত বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘বিশেষ এই সামরিক অভিযানে ইয়াফা অঞ্চলের আল-লোদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হাইপারসনিক ‘প্যালেস্টাইন-২’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আল্লাহর অনুগ্রহে এটি সফল হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের নিরন্তর আগ্রাসন এবং গাজাবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবরোধের প্রতিবাদে, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়েমেন একটি আরব জাতি হিসেবে তাদের প্রতি নৈতিক, মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।’
তবে এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, এটি ‘হাইপারসনিক’, অর্থাৎ শব্দের গতির চেয়ে বহুগুণ বেশি দ্রুতগামী—যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি বাহিনী নানা সময় ইসরায়েলগামী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। এবার তারা সরাসরি ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থল তেলআবিবে এমন হামলার দাবি করল।
এই হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ইসরায়েলও আনুষ্ঠানিকভাবে এর সত্যতা স্বীকার করেনি। তবে ইয়েমেনি বাহিনীর এই দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় একটি বড় ধরনের মোড় বলে বিবেচিত হবে।
সূত্র: আল-মায়াদিন, মেহের নিউজ
জুলাই যোদ্ধাদের শাহবাগ ব্লকেড, যান চলাচল বন্ধ
একদিন ভারতেও তেল রপ্তানি করবে পাকিস্তান: ট্রাম্প