ফরিদপুরের চাঞ্চল্যকর অটোচালক শওকত মোল্লা হত্যা মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনের ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায় ১ বছরে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে দশ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদেয় ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাকসুদুর রহমান এ রায় প্রদান করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মেহেদী আবু কাওসার, জনি মোল্লা, রাসেল শেখ, রাজেশ রবি দাশ এবং রবিন মোল্লা। এ ছাড়া অটো ক্রয় করা ব্যক্তি বাদশা শেখকে দশ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ সময় আদালতে সকল আসামি উপস্থিত থাকলেও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাসেল শেখ পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর শহরের পশ্চিম খালাসপুর এলাকা থেকে শওকত মোল্লার ইজিবাইকটি ভাড়া করে নেন কতিপয় যুবক। এরপর সেই অটোচালক এবং ইজিবাইক নিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়ায়। এর এক পর্যায়ে শহরের বাইপাস সড়ক এলাকায় নিয়ে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে চলে যায়। এরপর পরের দিন সকালে বাইপাস সড়কের পাশে একটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে সেদিনই শওকতের পিতা আয়নাল শেখ বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর কোতোয়ালি থানার মামলার তদন্তকারী অফিসার মোহাম্মদ এসআই আবুল বাশার এবং পরে এস আই শামীম দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান খোকন বলেন, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি পাশাপাশি এ রায়ের ফলে আগামী দিনে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি। পরে পুলিশ করা পাহারার মধ্যে দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।