দেশে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) প্রকাশ করেছে সরকার। এ সূচকে ব্যক্তির আয়-রোজগারের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণ করা হয় না, বরং বিভিন্ন সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণ করা হয়।
মোট ১১টি সূচকের সমন্বয়ে এই দারিদ্র্র্য হিসাব করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশে গড়ে ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্র্যের শিকার। এই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি জেলা বান্দরবনে এবং সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্য ঝিনাইদহে।
তবে অনেক পুরনো উপাত্তের ভিত্তিতে এই দারিদ্র্য হিসাব করা হয়েছে। ফলে বর্তমান বাস্তবাতায় এই গবেষণা প্রতিবেদনটির উপযোগ কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এমপিআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ (হেইস) এবং ২০১৯ সালের বহু সূচকবিশিষ্ট গুচ্ছ জরিপের (মিকস) ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।
যে ১১টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরূপণ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন, পানির প্রাপ্যতা, আবাসনের মান, রান্নার জ্বালানির প্রাপ্যতা, সম্পদের প্রাপ্যতা, ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যলয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার, শিশুদের শিক্ষাকালের ব্যাপ্তি, পুষ্টি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা।
এই বিচারে দেখা গেছে, জাতীয় পর্যায়ে ২৪ শতাংশ মানুষ গড়ে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এই দারিদ্র্য হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে। বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার বেশি। শুন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এমপিআই হার ২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
এদিকে জেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বহুমাত্রিকতার বিচারে সবয়েছে বেশি দারিদ্র্য হার বান্দরবানে। সেখানে এ হার ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা কক্সবাজারে এ হার ৪৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে আরও আছে যথাক্রমে সুনামগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৩৬, রাঙ্গামাটিতে ৪৫ দশমিক ৮৯, ভোলায় ৪৫ দশমিক ১২, নেত্রকোণায় ৩৮ দশমিক ২১, হবিগঞ্জে ৩৭ দশমিক ৪৮, খাগড়াছড়িতে ৩৬ দশমিক ৯১, কিশোরগঞ্জে ৩৬ দশমিক ১১ এবং কুড়িগ্রামে ৩৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।
সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার ঝিনাইদহ জেলায়। জেলার ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এর পরের শীর্ষ ১০ জেলাগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ঢাকায় ৯ দশমিক ১৯, গাজীপুরে ৯ দশমিক ৬৩, যশোরে ১০ দশমিক ৫৮, মেহেরপুরে ১১ দশমিক ০৮, কুষ্টিয়ায় ১২ দশমিক ২২, চুয়াডাঙ্গায় ১৩ দশমিক ৫১, মানিকগঞ্জে ১৪ দশমিক ০৭, ফেনীতে ১৪ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার বিদ্যমান।