শ্রীনগরে বসতভিটে হারানোর শঙ্কায় একটি পরিবার

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বসতভিটে ভেঙে রাস্তার নির্মাণ করার আতঙ্কে দিনযাপন রয়েছেন একটি পরিবার। জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকার নুরে আলম চৌধুরীর বাড়ি থেকে পালবাড়ি রাস্তা নির্মাণে সেখানকার পালবাড়ি ভেঙে ফেলার পাঁয়তারার অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এতে বসতভিটে হারানোর শঙ্কায় রীতিমতো ভয়ের মধ্যে রয়েছে পরিবারটি। ২০ শতাংশের পালবাড়ির বসতভিটের ১৮ ফুট প্রস্থ ও ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যে সর্বসাকুল্যে অন্তত ৬ শতাংশ বসতভিটে নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছে ওই রাস্তা নির্মাণে।

এদিকে, ৮০ বছরের পুরনো এ পালবাড়ির মালিকানায় রয়েছেন লুৎফে হাবীব, নাঈমা হাবিব, ইমরান হাবিব ও নাসিমা হাবিব। আবার ওই বসতভিটের কিছু অংশের মালিক হচ্ছেন শারমিন রহমান। একটি প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ইশারায় উপজেলা এলজিইডি এ রাস্তা নির্মাণকাজ করছে। পালবাড়ির সামনে কোনো কালেই রাস্তা ছিল না। অথচ এক প্রভাবশালী ব্যক্তির খুশিতে পালবাড়ির বসতভিটে উচ্ছেদ করে এ রাস্তা নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লুৎফে হাবীব জানান, একটি মহলের চক্রান্তে পালবাড়িটি খাস জমি এবং সরকারি রাস্তা রয়েছে মর্মে ২০০৭ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক জমির মালিকদের বিবাদী করে আদালতে মামলা করেন। অথচ ওই জমির বাসিন্দারা সাবকবলামূলে মালিকানায় আছেন। সেটি কখনোই জমিদারি বা সরকারি খাস সম্পত্তি ছিল না।

বসতভিটের অন্য আরেক মালিক শারমিন রহমানের পক্ষে আমমোক্তার নামা কাজী রুবেল জানান, ছয়-সাত মাস আগে হঠাৎ করেই ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারসহ অচেনা কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাদের বসতভিটে মাপামাপি শুরু করেন এবং তাদের জানানো হয় এখানে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হবে। সেই সূত্রে তারা রাস্তা নির্মাণ হওয়ার কথা প্রথমে জানতে পারেন। দুঃখের বিষয় এরপরই সহকারী কমিশনার (ভূমি) জমির মালিকদের নামে থাকা নামজারি বাতিলের নোটিস দেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রাব্বানী সোহেল বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণের জন্য কারও জমি নেওয়া হলে অবশ্যই আইনগত নিয়ম মেনেই নেওয়া হবে।’