যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় ছোট ছোট ব্রিজ ও কালভার্টের বেহাল দশা। পৌরসভাসহ উপজেলার অন্তত ২৫টি ব্রিজ-কালভার্টের দুই পাশের রেলিং ভাঙা, এমনকি অনেক পাটাতনেও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। তিন দশক আগে নির্মিত এসব ব্রিজ-কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এমন করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভাঙা রেলিং থেকে বেরিয়ে আসা লোহার রড রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিরা, যা তারা নেশার টাকা জোগাড় করতে বিক্রি করছে। বেহাল ব্রিজ-কালভার্ট শুধু জনচলাচলের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, নেশাগ্রস্তদের হাতে লোহার রড চলে যাওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কার করে জনচলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মণিরামপুর পৌর এলাকার হরিহর নদীর ওপর প্রায় তিন দশক আগে তিনটি ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। এগুলো শুধুমাত্র জনসাধারণের চলাচলের জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, আলমসাধুসহ হালকা যানবাহন চলাচল করে। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে এসব ব্রিজের রেলিংগুলো খসে পড়ায় সেগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির চোরচক্র ভাঙা রেলিং থেকে বেরিয়ে আসা লোহার রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
একই চিত্র উপজেলার কুমারসীমা গ্রামের মুক্তেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজ, সোনাডাঙ্গা গ্রামের কালভার্ট, বাগডোব গ্রামসহ অন্তত ২৫টি পুরনো ছোট ব্রিজ-কালভার্টের। এই ব্রিজগুলোর লোহার রডও নেশাগ্রস্তদের হাতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এসব চোর মূলত নেশার টাকা জোগাড় করতেই লোহার রড কেটে বিক্রি করছে। তারা দ্রুত এসব ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পৌর সভার প্রকৌশলী উত্তম কুমার মজুমদার জানান, ব্রিজগুলোর খারাপ অবস্থার ব্যাপারে আগে কেউ তাকে জানায়নি। তিনি সরেজমিনে দেখে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ অবশ্য জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এমন ১২টি ব্রিজ পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।