দেশীয় মাছের প্রজনন সুরক্ষা ও নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নাটোরের বাগাতিপাড়ায় শুক্রবার (১ আগস্ট) ভোরে বড়াল নদীতে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ১৭টি অবৈধ চায়না দুয়ারি রিং জাল জব্দ করে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের জালালপুর ঘাট থেকে বাশবাড়িয়া ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হাসান, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশেক এস. বি. সাত্তার, পুলিশ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের নদ-নদীতে অবৈধ মাছ ধরার যন্ত্রপাতি নির্মূল করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। চায়না দুয়ারি রিং জাল মাছের প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্যে জন্য মারাত্মক হুমকি। অভিযানে প্রায় লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়। আর এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চায়না দুয়ারি রিং জাল একটি নিষিদ্ধ, পরিবেশ বিধ্বংসী জাল। এটি পানির নিচে বসিয়ে মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট মাছ ধ্বংস হয়ে যায়, যা দেশীয় মাছের প্রজননে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এ কারণে এই জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নদী রক্ষা এবং মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ধরে রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে স্থানীয়দের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি একত্রে না থাকলে এসব অভিযানও দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনতে পারবে না।’