মার্কিন শুল্ক আলোচনায় যেভাবে সফল বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর আলোচনায় সফল হয়েছে বাংলাদেশ। গত ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার কমিয়ে দেয়। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত একটি আকর্ষণীয় প্যাকেজের ভিত্তিতে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে এ সাফল্য আসে।

২৩ জুলাই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তার চূড়ান্ত অবস্থানপত্র পাঠানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এর আগে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের তৃতীয় দফার বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর ২৯ জুলাই আড়াই ঘণ্টার একটি ভার্চুয়াল মিটিংয়ের সুযোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের চূড়ান্ত প্রস্তাব পেয়ে তাদের মনোভাব বদলায়। ভার্চুয়াল মিটিং বাতিল করে তিন দিনের সশরীর বৈঠকের আমন্ত্রণ জানায় ইউএসটিআর।

দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বাংলাদেশের শুল্ক ৩৭% থেকে ৩৫%-এ নামলেও ভিয়েতনামের শুল্ক ২০%-এ নির্ধারিত হয়। এতে বাংলাদেশ আরও জোরালো দরকষাকষিতে নামে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতামত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিযোগ্য পণ্যের তালিকা প্রস্তুত করে। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মার্কিন কোম্পানি শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল ও আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়:

গম আমদানি: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে ২.২০ লাখ টন গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

বোয়িং ক্রয়: ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়।

এলএনজি ও তুলা আমদানি: স্পট মার্কেট থেকে মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে এলএনজি আমদানি এবং সরকারিভাবে তুলা আমদানির ব্যবস্থা করা হয়।

সয়াবিন ও ডাল: বেসরকারি খাতের সহায়তায় সয়াবিন ও তুলা আমদানি বাড়ানোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডাল আমদানিও বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।

চূড়ান্ত আলোচনায় মেঘনা গ্রুপ ১৩০ মিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানির চুক্তি করে। এছাড়া বাংলাদেশি আমদানিকারকরা ৩০-৩৫ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন তুলা আমদানির চুক্তি করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা জানান, বাণিজ্য উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দক্ষতায় এ সাফল্য এসেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের দরকষাকষি খুব কম দেশই করতে পেরেছে। তবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল শুল্ক আরও কমবে। বর্তমান হার (২০%) প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো হলেও ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে সমান সুবিধা পেতে আরও কমানো প্রয়োজন ছিল।

এসব প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশের শুল্কহার ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০%-এ আনা সম্ভব হয়েছে। আগামী দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।