'তুমি দারুণ দেখাচ্ছ' প্রসিদ্ধের এই কথাতেই ক্ষেপে যান শান্তশিষ্ট রুট

ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন ইংল্যান্ড তখন ভালো অবস্থানে, স্কোরবোর্ডে ১২৯/২—ঠিক তখনই জো রুটকে বিপদে ফেলেন প্রাসিদ্ধ, শুধুমাত্র তার বলেই নয়, মুখের কথাতেও।

জ্যাক ক্রলি ফেরার পর ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যাট করতে নামেন জো রুট। প্রথম বলেই গ্লাভসে আঘাত পান তিনি, তৃতীয় বলে প্রসিদ্ধের ওবল সিম ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হন। এরপরই কিছু একটা বলেন প্রাসিদ্ধ, যেটা হয়তো রুটের স্নায়ুতে আঘাত হানে।

পরের বলেই রুট স্কয়ার ড্রাইভে চার হাঁকান, কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে সেই সময় পাল্টা কিছু বলেন প্রাসিদ্ধকে, যার ফলে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। প্রায় দুই মিনিট ধরে চলে কথোপকথন। ভারতীয় ফিল্ডাররাও জড়িত হন বাকযুদ্ধে। পরে ধর্মসেনা নজরে রাখেন প্রাসিদ্ধের প্রতিটি আচরণ।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রসিদ্ধ জানান, “আমি শুধু বলেছিলাম, ‘তুমি দারুণ দেখাচ্ছো।’ এরপরই ও এমন প্রতিক্রিয়া দেখালো! এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।”
তিনি আরও জানান, ম্যাচের আগে থেকেই রুটকে কথার লড়াইয়ে জড়ানোর পরিকল্পনা ছিল ভারতের। তবে এমন প্রতিক্রিয়া আসবে, তা তিনি ভাবেননি।

প্রসিদ্ধের ভাষায়, “আমি যখন বোলিং করি, তখন একটু আক্রমণাত্মক থাকতেই ভালোবাসি। এটা আমার খেলার আনন্দ। ব্যাটারের স্নায়ুতে চাপ দিতে পারলে সেটা আমাকে সাহায্য করে। রুট একজন কিংবদন্তি, আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু মাঠে প্রতিযোগিতা থাকেই।”

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিক বলেন, “ওরা হয়তো নতুন কিছু চেষ্টা করেছে। রুট গত ক’টা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলছে, ওকে একটু নড়বড়ে করার চেষ্টা ছিল এটা। সাধারণত রুট এসব এড়িয়ে চলে, কিন্তু আজ ও পাল্টা দিয়েছে।”

এই বিতর্কিত সেশনে প্রাসিদ্ধ চারটি উইকেট তুলে নেন এবং ম্যাচের লাগাম ভারতের হাতে তুলে আনেন। একই দিনে আকাশ দীপের ডাকে আউট হয়ে ফেরার সময় ইংল্যান্ড ওপেনার বেন ডাকেটকে জড়িয়ে ধরেন তিনি—যা নিয়েও উঠেছে ভ্রু কুঁচকানো প্রতিক্রিয়া।

ট্রেস্কোথিক এই ঘটনা নিয়েও বলেন, “অদ্ভুত একটা ব্যাপার। কাউকে আউট করে ওভাবে বাহুডোরে নেওয়ার দরকার আছে কি? কাউন্টি ক্রিকেটে হলে হয়তো কেউ কনুই মেরে জবাব দিত!”

অদ্ভুত একটা ব্যাপার। কাউকে আউট করে ওভাবে বাহুডোরে নেওয়ার দরকার আছে কি? কাউন্টি ক্রিকেটে হলে হয়তো কেউ কনুই মেরে জবাব দিত!”

এইভাবে প্রতিটি ছোটখাটো ঘটনা মিলে এই সিরিজে বাড়িয়েছে উত্তেজনার পারদ। অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফি এখন দাঁড়িয়ে এক মহা টানটান লড়াইয়ের সামনে, যেখানে শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়, মনের লড়াইও সমান গুরুত্বপূর্ণ।