চার টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ সরবরাহের মাইলফলকে সাবমেরিন ক্যাবলস

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে নতুন রেকর্ড গড়েছে। রিয়েল-টাইম ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিবহনে প্রতিষ্ঠানটি এখন ৪.০০ টেরাবাইট প্রতি সেকেন্ড সক্ষমতা অর্জন করেছে।

গত ১ আগস্ট এ মাইলফলক স্পর্শ করে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে, জুলাই মাসে দেশে বাণিজ্যিকভাবে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা (স্টারলিংক) চালু হয়, যার মাধ্যমে ২০০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ দেওয়া হচ্ছে।

এপ্রিলে বিএসসিপিএলসির সক্ষমতা ছিল ৩.০০ টেরাবাইট। মাত্র তিন মাসে তা ১ টেরাবাইট বেড়ে ৪.০০ টেরাবাইটে পৌঁছায়। আগের আট মাসে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বেড়েছিল মাত্র ১.১০ টেরাবাইট। 

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতিষ্ঠানটির ৬৫% সক্ষমতা অব্যবহৃত ছিল।

বর্তমান সরকারের আমলে বিএসসিপিএলসির ব্যান্ডউইথ সরবরাহ ২.২০ টেরাবাইটের বেশি বেড়েছে। মাত্র এক বছরে প্রবৃদ্ধির হার ১০৫% ছাড়িয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নীতিগত সহায়তা, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা এবং দুই দফা মূল্য ছাড়ে এ সাফল্য এসেছে। ব্যান্ডউইথ বাজারজাতকরণ বাড়ায় বেড়েছে কোম্পানির আয়ও।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) লাইসেন্সিং গাইডলাইন সংশোধন করে সকল আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরদের জন্য নতুন শর্ত জারি করেছে। এই নির্দেশনা, অপারেটরদের ব্যবহৃত মোট ব্যান্ডউইডথের অন্তত ৫০% সাবমেরিন ক্যাবল থেকে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভারত-নির্ভর ইন্টারনেট সরবরাহ কমিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত।

একই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি পিএলসি (বিএসসিসিএল) নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। যে আইআইজি অপারেটররা তাদের মোট ব্যান্ডউইডথের ৫০%-এর বেশি সাবমেরিন ক্যাবল থেকে নেবে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথে বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড সার্ভিস ও হাইপারস্কেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আলাদা ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করা হয়েছে।

সরকার SEA-ME-WE 4 ও 5-এর পাশাপাশি SEA-ME-WE 6 সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের সংশোধিত রুটে চুক্তি করেছে। গত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিএসসিসিএলের নেটওয়ার্কে ১৭ টেরাবাইট অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি যুক্ত হবে, যা দেশের ইন্টারনেট সুবিধাকে আরও শক্তিশালী করবে।