ফুটবল ক্যালেন্ডারে দম ফেলার সময় নেই ক্লাবগুলোর 

মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে আবার মাঠে নামছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই। গত মৌসুম শেষ করেছে তারা ১৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে। নতুন মৌসুম শুরু করবে ১৩ আগস্ট ইতালির উদিনেতে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে ইউরোপিয়ান সুপার কাপ দিয়ে।

এই একমাসের মধ্যেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশে ফেরা, সংক্ষিপ্ত অবকাশ, সাত দিনের মিনি প্রি-সিজন ক্যাম্প, ইতালির ফ্রিউলি ভেনেজিয়া-জুলিয়া অঞ্চলে সফর সবই করতে হয়েছে। এরপর ১৭ আগস্ট ফরাসি লিগে প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা, প্রতিপক্ষ নঁত।

এলিট ক্লাবগুলো সংকটে

চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজি, ইংলিশ ক্লাব চেলসি ও স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ তিনটিই ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। কিন্তু এই বড় টুর্নামেন্টের পরও কোনো বাড়তি বিশ্রামের সুযোগ পায়নি তারা। নতুন এই ফিফা টুর্নামেন্ট পুরো ফুটবল ক্যালেন্ডারকেই ওলটপালট করে দিয়েছে।

ফুটবলে এখন দুটি বিষয় চালু অবিরাম সম্প্রসারণ এবং চূড়ান্ত ঠাসাঠাসি সূচিতে মানিয়ে নেওয়া। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো টুর্নামেন্ট বাড়াচ্ছে, আর জাতীয় লিগগুলো নিজেদের স্বত্ব রক্ষায় অনড়।

তাই উয়েফা ১৩ আগস্টেই ইউরোপিয়ান সুপার কাপের দিন ঠিক রেখেছে। ফলে মাত্র এক সপ্তাহ প্রস্তুতির সুযোগ পেয়ে পিএসজিকে মাঠে নামতে হচ্ছে, যেখানে টটেনহ্যাম শেষ ম্যাচ খেলেছিল ৮০ দিন আগে!

পিএসজির অনুরোধেও কর্ণপাত হয়নি

দুই মাস আগে পিএসজি অনুরোধ করেছিল, যেন লিগ ওয়ানের প্রথম ম্যাচ পেছানো হয়। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। ঠিক একইভাবে প্রিমিয়ার লিগেও চেলসি পেয়েছে মাত্র ৩৫ দিন, রিয়াল মাদ্রিদও সামান্য ১৫ দিনের প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছে।

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলাও প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই ম্যাচ পেছাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার অনুরোধও নাকচ হয়। ‘নভেম্বরে-ডিসেম্বরে হয়তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ব, আর বিশ্বকাপ আমাদের শেষ করে দেবে’ বলেছিলেন গার্দিওলা।

স্পেনে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৯ আগস্ট। তবে রিয়াল ও খেলোয়াড়দের ইউনিয়ন আরও দেরির অনুরোধ করলেও লা লিগা কর্র্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। আইনগতভাবে ন্যূনতম ২১ দিনের ছুটি দেওয়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু প্রি-সিজনের সময় নির্ধারণ নিয়ে কোনো পরিষ্কার নিয়ম নেই।

জার্মানি-ইতালিতে একটু স্বস্তি

ইতালি ও জার্মানির লিগ শুরু হবে কিছুটা দেরিতে ২২ ও ২৩ আগস্ট। সেখানে ক্লাবগুলো তুলনামূলক বেশি বিশ্রাম পেয়েছে, কারণ তাদের কোনো দল ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত যায়নি।

এলিট বনাম বাকিরা : বৈষম্য প্রকট

এই সূচি ফুটবলের বিভাজন স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপার এলিট দলগুলো অতিরিক্ত চাপে পড়ে, আর বাকিরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ওসাসুনা যখন তিন সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন রিয়াল মাদ্রিদ মাত্র দু’সপ্তাহ অনুশীলনের সুযোগ পাবে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার কারণে টটেনহ্যামও এই চাপের মধ্যে পড়ে, কিন্তু এইবার সুপার কাপে তারা সুবিধাজনক অবস্থায়, কারণ তাদের বিশ্রামের সময় ছিল অনেক বেশি।

শীর্ষ তারকারা বিপাকে

পিএসজির মিডফিল্ডার ভিতিনহা গত মৌসুমে পর্তুগাল ও ক্লাব মিলিয়ে খেলেছেন ৬৭টি ম্যাচ, যার বেশিরভাগই ছিল মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে। রিয়ালের ফেদে ভালভার্দে খেলেছেন ৭২ ম্যাচ এর ৬৮ শতাংশ ম্যাচের মধ্যে বিশ্রামের সময় ছিল ৪ দিনেরও কম।

১৩ জুলাই চেলসি ও পিএসজি ১১ মাসের মৌসুম শেষ করেছে ক্লাব বিশ্বকাপের মাধ্যমে, যেখানে প্রাইজমানি ছিল ১ বিলিয়ন ইউরো। আর ১৩ আগস্ট শুরু হচ্ছে আরেকটি দীর্ঘ মৌসুম শেষ হবে আবার জাতীয় দলের বিশ্বকাপে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো ২০২৬ বিশ্বকাপও ফুটবল ক্যালেন্ডারে বিশৃঙ্খলা বাড়াবে, কারণ এবার অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ছে ৩২ থেকে ৪৮-এ। ফলে ভবিষ্যতে ক্লান্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাবে ফুটবলাররা এটি এখন আর আশঙ্কা নয়, বাস্তবতা।