নদীর মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণের কারণে মেঘনা নদীর পাশের পাকা রাস্তায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়তই এ রাস্তা ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দুর্ঘটনার ভয়ে মানুষ রাতে চলাচল বন্ধ রেখেছে। রাস্তাটি ভাঙনের কারণে যেতে পারছে না কোনো জরুরি সেবা গ্রহণকারী যানবাহন। রাস্তাটি উপজেলার দক্ষিণ চারবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার ঘাটে ।
জানা যায়, মোল্লার হাট ও বায়রাখাট সড়ক রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে থাকেন ২০ হাজারেরও বেশি লোকজন। নদী থেকে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণের কারণে পাকা রাস্তা ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। যাতায়াতকারীরা ভোগান্তির শিকার হয়ে চলাচল করছেন। নদীতে বর্ষার পানি আসায় আরও তীব্র আকার ধারণ করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন তারা। আবার অনেক পথচারীরা হেঁটে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে এ রাস্তায় যাতায়াতে খুবই অসুবিধা ভোগ করছেন। এ ভাঙনের ফলে যে কোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মুসলিম উদ্দিন, আজমত আলী, রশিদ ও বেলাল হোসেন জানান, এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই রাস্তাটি ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে পায়ে হাঁটা ছাড়া রিকশা-ভ্যানসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে কোনো জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করা দুরূহ। ঝুঁকি নিয়ে দিনে চলাচল করা গেলেও রাতে চলাচল বন্ধ। এভাবে ভাঙতে থাকলে যে কোনো সময় দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার লোকের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে।
মোল্লারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী এক শিক্ষক বলেন, এলাকাবাসীর চলাচলের স্বার্থে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন। না হলে যে কোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান খান জানান, নদীতে পানি থাকায় এখন রাস্তাটি মেরামত করা সম্ভব নয়। পানি কমে গেলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও রাস্তাটি পরিদর্শন করে চলাচলের জন্য সংস্কারের কাজ শুরু হবে।