সিরাজগঞ্জে ১ হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সোনাখাড়া ও মাধাইনগর ইউনিয়নের ১২ গ্রামের নিম্ন এলাকার ১ হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সব গ্রামের ৫০০ হেক্টর জমির আমন ও বোর ধান ডুবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাকি জমির ফসল রক্ষায় তারা সড়কটি কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে জলাবদ্ধতা দূর করেন।

পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার
পৌর সদরের কাটাগাড়ি সড়কের নির্মাণাধীন ব্রীজের পাশের বিকল্প সড়ক তৈরি করার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

রবিবার (৩ আগস্ট) সকালে ফসলের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসি ওই বিকল্প
সড়ক কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে। গ্রামগুলি হল, সোনাখাড়া
ইউনিয়নের নিমগাছি, কুমাল্লু, মাধাইনগর ইউয়নের ধাপওশিন, ধানকুন্ঠি,
মাদারজানি, সোনাপাতিল, পৌশার, গুয়ারাখি, বিলাশপুর, কাস্তা, পৌর সদরের
ভাদাস গ্রাম।

এদিকে বিকল্প সড়কটি কেটে দেওয়ায় ভাদাস, সেরাজপুর, কাস্তা, গুরমাসহ
পাশাপাশে বেশ কয়েকটি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে
পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী কমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও গুরুতর অসুস্থ্য
রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সময় বিপাকে পড়েছে
স্বজনেরা। ফলে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে
ব্রীজটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি
নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে বিকল্প সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন
ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানায়, বিকল্প সড়কে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না
করে চাহিদার তুলনায় অল্প ব্যাসের চোং দেয়ার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন
হচ্ছিল না। ফলে তাদের ১২টি গ্রামের ১ হাজর হেক্টর
জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যেই তাদের ৫০০
হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি জমির ফসল রক্ষায় তারা বিকল্প সড়কটি
কেটে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছে। 

এ বিষয়ে তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ব্রিজের পাশে
বিকল্প সড়কে পর্যাপ্ত ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায়
এলাকাবাসি জলাবদ্ধতা নিরশনে সড়কটি কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ফসল
রক্ষা করতে পারলেও আমাদের কলেজে যাতায়াতের সময় সমস্যা হচ্ছে। 

এ বিষয়টি জানতে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।