এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’ বললেন টিআইবি নির্বাহী পরিচালক

জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

আজ সোমবার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে 'কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক দল বা কিংস পার্টি গঠন করা হয়েছে। এই কিংস পার্টি কারা—এ প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক। জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা গোপন করার কিছুই নেই। এটি জাতীয় নাগরিক পার্টি, তার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে কিংস পার্টি। কারণ এর সঙ্গে সহযোদ্ধা বা সহযাত্রী হিসেবে যারা আছেন, তাদের মধ্যে দুজন সরকারে এখন আছেন। সে হিসেবে কিংস পার্টি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কিছু উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই অগাস্টের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের আগেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজে ধীর গতি আছে বলেও মনে করি টিআইবি।

এক বছরের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে টিআইবির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অব্যাহত রয়েছে খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, আন্দোলন, লুটপাট, অরাজকতা। মব জাস্টিস ও গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিরতা ও কোনও সংকটের শঙ্কা রয়েছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এখন তো একটা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অস্থিরতা যেকোনো সময় হবে না, তা বলা যায় না।

এনবিআর সংস্কারের উদাহরণ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোথাও কোথাও সংস্কারের নাম করে আরও বেশি অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে।