ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিজয় র্যালিতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরোপয়েন্টে এ হামলার ঘটনায় উভয় গ্রুপের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এ বিজয় রালির আয়োজন করে। শান্তিপূর্ণ র্যালিটি চৌমুহনী রোড থেকে দাগনভূঞা পৌর শহরের জিরোপয়েন্টে পৌঁছাল সেখানে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা স্বদলীয় প্রতিপক্ষ মিছিলে অতর্কিত হামলা করে নেতাকর্মীদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ও তাদের মারধর করে।
এ সময় পেছন থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলায় উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জাহানারা বেগম, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইমুন হক রাজীব, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম মানিক, ইঞ্জিনিয়ার সোহেল ও সরোয়ারসহ প্রায় ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, হামলায় অংশ নেয় পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন, আবুল হাশেম বাহাদুর ও ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত ফটিক। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে জন্য তাদের হামলার কোনো প্রতিবাদ করিনি।
তিনি বলেন, আজকের বিজয় র্যালিতে হামলার ঘটনা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। বিএনপিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিতর্কিত করতে এই ষড়যন্ত্রকারীরা আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। তাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না, এ ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে আমরা কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা ধৈর্যধারণ করছি, আরও করে যাবে।
বিএনপির বিজয় র্যালিতে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিরোপয়েন্টে রক্তদান কর্মসূচি পালন করছি। এ সময় তারা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মিছিল থেকে তাদের কিছু নেতাকর্মী আমাদের কটাক্ষ করে মন্তব্য করে। তখন আমাদের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা তা নিভৃত করি। আমাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে এ অভিযোগটি সত্য নয়। বরং তাদের হামলায় আমাদের বেলাল, সিফাত, মিলনসহ পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, বিএনপির বিজয় র্যালিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দাগনভূঞা থানা-পুলিশ তাৎক্ষণিক তা নিভৃত করে। এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
কালিহাতীতে বিজয় মিছিল কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ধাওয়া : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বিএনপির বিজয় মিছিল কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটোর নেতৃত্বে কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়। অপরদিকে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপরপক্ষ কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ তালুকদার, ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম, কালিহাতী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলী আকবর জব্বার ও জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল তাদের নেতাকর্মী নিয়ে শহীদ শফি সিদ্দিকী তোরণের পাশে একটি সমাবেশ করছিলেন।
পরে মিছিলটি সমাবেশের কাছাকাছি চলে আসায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাগ্বিত-া থেকে হামলা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ তালুকদার কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে তাদের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানান, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলাম। হঠাৎ করে বেনজির আহমেদ টিটোর নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থি লোকজন নিয়ে আমাদের সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে মিছিল নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।’ পরে কালিহাতীর মানুষ সেটা প্রতিহত করতে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মজনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটোর নেতৃত্বে আমরা কালিহাতী আর এস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বিজয় মিছিল বের করে বাসস্ট্যান্ডে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডের কাছে লুৎফর রহমান মতিন, শুকুর মাহমুদ, ডা. শাহ আলম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম, আলী আকবর জব্বার ও আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে তাদের কর্মী সমর্থকরা আওয়ামী সমর্থকদের নিয়ে আমাদের মিছিলের ভিতরে ঢুকে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমাদের ১০-১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়ে কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব কি না সেটা আমাদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেব।
এ বিষয়ে কালিহাতী সার্কেল এএসপি (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আজকের এ ৫ আগস্ট বিএনপির উভয় পক্ষের কর্মসূচি থাকায় পাশাপাশি বিজয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবাক্যের বিনিময় হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো মারামারি বা হাতাহাতি হয়নি। আমরা আশা করছি পরবর্তীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না।