নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় উপদেষ্টা পরিষদেও কারও কারও মন খারাপ: মেজর হাফিজ

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় উপদেষ্টা পরিষদের কোন কোন সদস্যের মন খুবই খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন। বুধবার বিকালে রাজশাহীতে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত বিজয় র‌্যালি শেষে পথসভায় তিনি একথা বলেন। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে প্রফেসর ইউনূস বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি জনগণের ভোটে ৪ বার ক্ষমতায় গিয়েছি। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কখনোই উদগ্রিব ছিলাম না। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যদি জনগণের নির্বাচিত সরকার না থাকে তাহলে এই দেশের উন্নয়ন হবে না। ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা সারা দেশে মুক্তি যুদ্ধের সুচনা করেছিলাম। তখন যদি আমরা সৈনিকেরা ও ছাত্ররা পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে অদ্ধ কারণ না করতাম তাহলে দেশ আজও স্বাধীন হতো না। ৭১ এর যুদ্ধ ছিল গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’

হাফিজ বলেন, দেখা যাচ্ছে দু-একটি দল যাদের জনসমর্থন নাই এদের মধ্যে কেউ কেউ ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধের বিরোধিত করেছিল। তারা জানে জনগণ তাদেরকে ভোট দিবে না। সেই জন্য তাদের মন খুবই খারাপ। নির্বাচন না দিলেই ভালো ছিল। তারা গত এক বছরে নির্বাচনের স্বাদ কিছুটা অনুভব করেছে। তারা চেয়েছিল এই ভাবেই তারা দিন কাটিয়ে দিবে।

বিএনপি নেতা কর্মীদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন আওয়ামী লীগের কেন পতন হয়েছে। এই স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছে দুর্ণীতির কারণে, ভুয়া নির্বাচন করার কারণে, অর্থ সম্পদ লুট করার জন্য, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার কারণে তাদের এই পতন ঘটেছে। আমরা ইনশাল্লাহ জনগনের সমর্থন নিয়ে আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবো। কিন্তু আমাদের ওপর অনেক দায়িত্ব। আমাদের সবাইকে সৎ থাকতে হবে। দুর্নীতির বাইরে থাকতে হবে। যদি আমরা আওয়ামী লীগের মতোই করি আমাদেরও পরিণতি কিন্তু আওয়ামী লীগের মত হবে। এই কথাটা আপনারা সবাই মনে রাখবেন।