শ্রীপুর

স্ত্রীকে পিটিয়ে ‘হত্যা করায়’ বাড়ি পুড়িয়ে দিল ক্ষুব্ধ জনতা

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলাম মৃধা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আগুন দিয়ে তার বাড়ি পুড়িয়ে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে এর আগেই ৬টি কক্ষ পুড়ে যায়।

এদিকে নিহত সুইটি আক্তারের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুইটি পাশের পাগলা থানার নিগুয়ারি গ্রামের আফসারুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মৃধা বরমী মধ্যপাড়া গ্রামের শাহজাহান মৃধার ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

নিহতের স্বজনরা জানান, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে সুইটি ও নুরুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে একটি চার মাস বয়সী মেয়ে আছে। তারা বলেন, বিয়ের পর থেকেই নানা ভাবে নির্যাতন করা হত সুইটির ওপর। নুরুল ইসলাম মাদকাসক্ত ছিলেন। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার চাপ দিত। বুধবার রাতে কোনো একসময় স্ত্রীকে পিটিয়ে পাথর দিয়ে থেঁতলে পালিয়ে যায় নুরুল ইসলাম। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে খবর আসে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রীকে পিটিয়ে খুন করেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ক্ষুব্ধ জনতা এক হয়ে তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তারা বলেন, নুরুল ইসলাম মাদকাসক্ত ছিল। তিনি প্রায় স্ত্রীকে বেদম মারধর করতেন। আজ পিটিয়ে মেরেই ফেলেছেন।

মাওনা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই ঘরগুলো পুড়ে গেছে।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি আবদুল বারিক বলেন, বুধবার রাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী পালিয়ে আছেন। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক স্বামীকে ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।