সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের ইটালি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. কামরুজ্জামান ওরফে খয়রুজ্জামানের বাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার পরিবারকে গত ১ মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চলাচলের রাস্তা খুলে দেয়। এরপর পুলিশ চলে আসার পর থেকে রাস্তা জুড়ে গরু বেঁধে রাখায় তার অবরুদ্ধার এখনও নিরসন হয়নি। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুরে মো. কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে এমনটাই জানিয়েছেন।
মো. কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ চলাচলের রাস্তা খুলে দিয়ে যাওয়ার পরমূহুর্ত থেকে রাস্তাজুড়ে গরু বেঁধে রেখে পুন:রায় চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে এখনও বাজার থেকে ভ্যানে করে গো-খাদ্য কিনে আনা সম্ভব হয়েছে না। এর আগে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের প্রতিবেশী মৃত সেরাজুল মাস্টারের ছেলে ওয়াদুদ (৪৫), আকবর মৌলভীর ছেলে তাইনুছ (৪৭), আরিফ (৪০), তুরাপ খাঁনের ছেলে তাওহীদ, তামজীদ, আকেবদীন খানের ছেলে ময়নাল খান গংরা গত ১ মাস ধরে তার বাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছিল না। শুধু তাই নয়, গ্রামের প্রভাবশালীরা সালিশের নামে তার প্রতিপক্ষদের পক্ষ নিয়ে তার পরিবারকে একঘরে করে রেখেছিল। গ্রামের কোনো লোক যদি তাদের সঙ্গে কথা বলে বা রিকশা-ভ্যানে তোলে তবে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে ঘোষণা দেয়। তাদের এই অন্যায় সালিশ মেনে না নেওয়ায় তারা বাজার থেকে তার খামারের ১৩টি গরুর খাদ্য কিনে আনা বন্ধ করে দেয় ফলে দীর্ঘদিন ধরে গরুগুলো না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাজারঘাট করতে না পারায় আমাদেরও না খেয়ে দিন কাঁটাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এর প্রতিকার চেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছি না। এ বিষয়ে তাইনুছ, আরিফ ও ইব্রাহিম জানান, কামরুজ্জামান সমাজের কাউকে না মানায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকলেছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমি নিজে গিয়ে তার চলাচলের পথ খুলে দিয়ে এসেছি। এরপর আর কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তবুগির অভিযোগ পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আবারও সমস্যা হলে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।