আমার ছেলেকে এনে দাও, আমি সইতে পারছি না: সাংবাদিক তুহিনের বাবা

গাজীপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে কান্নার রোল। তুহিনের বৃদ্ধ মা-বাবার কান্না যেন থামছেই না। তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছে আশপাশের মানুষ। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তুহিন হত্যার ঘটনায় তার বৃদ্ধ বাবা মো. হাসান জামাল এখন পাগলপ্রায়। ছেলের মৃত্যুর খবরে ক্ষণে ক্ষণে মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুহিনের বৃদ্ধ বাবা মো. হাসান জামিল বলেন, ছেলে আমার জন্য ওষুধের টাকা পাঠাতো। আমি সুস্থ আছি কিনা খোঁজখবর নিতো। অসুস্থতার খবর শুনলে মন খারাপ করতো। এ ছেলে আমার কলিজার টুকরা। তাকে জনসম্মুখে খুন করা হল। এটা আমি সইতে পারছি না। তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার ছেলেকে এনে দাও আমি সইতে পারছি না।

তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল বলেন, গত পরশু আমার ছেলে মোবাইলে কল করে আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারল, কী দোষ তার?

স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভাটিপাড়ার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান তুহিন। ২০০৫ সাল থেকে গাজীপুরের চান্দনা এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন সাংবাদিক তুহিন। সেখানে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে চান্দনা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় সাংবাদিক তুহিনকে জনসম্মুখে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সাংবাদিকরা। এ সময় তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এতে ফুলবাড়িয়া ছাড়াও জেলার প্রিন্ট ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সাংবাদিকরা অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দেখা গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

তুহিনের মরদেহ গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বাদ জুমা তার প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হয়। এরপর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।