টেস্ট অভিষেকে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন জাকারি ফোকস। জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গিয়েছিল ১২৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ফোকস নিলেন ৫ উইকেট। জিম্বাবুয়ে এবার মাত্র ২৮.১ ওভারেই গুটিয়ে গেলো ১১৭ রানে। বুলাওয়ো টেস্টে ইনিংস ও ৩৫৯ রানে জিতলো নিউজিল্যান্ড, যা তাদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। অন্যদিকে শোচনীয়তম হার জিম্বাবুয়ের।
দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ৪৭৬ রানের লিড নিয়ে রাতেই ৬০১ রানেই ইনিংস ঘোষণা করেছিল নিউজিল্যান্ড। আজ সকালে বাড়তি সেশন মিলিয়েও জিম্বাবুয়ে টিকল মাত্র ২৮.১ ওভার, অলআউট ১১৭ রানে। ইনজুরিতে নাথান স্মিথ ও উইল ও’রুর্কের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া ফোকস দেখালেন দারুণ ইনসুইংয়ের ঝলক। ম্যাট হেনরি ও জেকব ডাফি প্রাথমিক ধাক্কা দেওয়ার পর বল হাতে বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন এই ডানহাতি পেসার। ৮ ওভারে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে নিশ্চিত করেন, অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে বোলিংয়েই লাগেনি।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু তৃতীয় বলেই—হেনরির ইনসুইংয়ে বোল্ড ব্রায়ান বেনেট। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। ডাফি অভিষেকে পান প্রথম টেস্ট উইকেট, নিজেই ক্যাচ নেন শন উইলিয়ামসের লিডিং এজ থেকে। টেস্টে ফেরা ব্রেন্ডন টেইলর প্রথম ইনিংসে ৪৪ করলেও এবার করেছেন মাত্র ৭। একমাত্র প্রতিরোধ আসে নিক ওয়েলচের (৪৭) ব্যাটে। তার সঙ্গে ক্রেইগ এরভিন ২৫ রানের জুটি গড়েন। তবে আগের ইনিংসের মতো এবারও ফুল লেংথ ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এরভিন। সিরিজজুড়ে শর্ট বলের বিপরীতে সমস্যায় থাকা সিকান্দার রাজা এবারও (৪) ফোকসের বাউন্সারে গালিতে ধরা পড়েন। এরপর ফোকস দুইটি অসাধারণ ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড করেন ভিনসেন্ট মাসেকেসা ও ট্রেভর গুয়ান্ডুকে। ব্লেসিং মুজারাবানি স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফোকসেসের পঞ্চম শিকার হন, অভিষেকে ম্যাচ ফিগার দাঁড়ায় ৯/৭৫। নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেকে এর আগের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল গতবছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উইল ও’রুর্কের ৯/৯৩।
নিউজিল্যান্ড সফর শেষ করল অপরাজিত থেকে। তারা পরবর্তী টেস্ট খেলবে নভেম্বরে, ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যা দিয়ে শুরু হবে তাদের ২০২৫–২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ যাত্রা। অন্যদিকে সিরিজে জিম্বাবুয়ে হেরেছে সব ম্যাচ—দুই টেস্ট ও ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টির সব খেলাই। তারা এখন সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মন দেবে।